অসুস্থতার দু‘আ ও রোগী দেখতে যাওয়া
রোগী দেখার দু‘আ, রুকইয়াহ, নিজের ব্যথার দু‘আ ও আরোগ্য নিয়ে কুরআনের আয়াত, সাবীল লাইব্রেরি থেকে, সূত্রসহ।
এআই-এর লেখা · আলেমদের পর্যালোচনা বাকি আছে
এই প্রবন্ধের কথাগুলো সাবীল লাইব্রেরি ও তার উৎসগুলো থেকে এআই লিখেছে, এবং এআই-ই সেগুলোর সাথে মিলিয়ে তা যাচাই করেছে। কোনো আলেম এখনও এটি পর্যালোচনা করেননি। আরবি পাঠ, সেগুলোর অর্থ ও সেগুলোর সূত্র লাইব্রেরি ও কুরআনের নিজস্ব, সেখানে যেমন আছে হুবহু তেমনই দেখানো। নিজের অবস্থার ব্যাপারে ফতোয়ার জন্য একজন যোগ্য আলেমকে জিজ্ঞেস করুন।
প্রকাশিত ৩ অক্টোবর, ২০২৬হালনাগাদ ২১ অক্টোবর, ২০২৬পড়তে ৮ মিনিট
অসুস্থতা সবার জীবনেই আসে, আর হাদীসে অসুস্থ মানুষের জন্যও কথা আছে, আর যিনি তাঁকে দেখতে যান তাঁর জন্যও। এই পাতায় সাবীল লাইব্রেরিতে এ বিষয়ে যা আছে তা এক জায়গায় আনা হয়েছে: রোগী দেখতে গিয়ে পড়ার দু‘আ, রোগীর উপর পড়া রুকইয়াহ, নিজের ব্যথার দু‘আ, আরোগ্য নিয়ে কুরআনের নিজের কথা, আর মুসলিমদের পারস্পরিক হকের মধ্যে রোগী দেখতে যাওয়ার স্থান। প্রতিটি দু‘আ তার আরবি, উচ্চারণ, অর্থ ও লাইব্রেরির দেওয়া সূত্রসহ দেখানো হয়েছে; হাদীসগুলোর নম্বর শেষে দেওয়া আছে। কিছু আয়াতের নিচে সংস্করণের নিজের টীকাও দেখানো হয়; সেগুলো সংস্করণের নিজের কথা, এই পাতার নয়। এই পাতার কোনো কিছুই চিকিৎসার বিকল্প নয়; আর নিজের অবস্থা নিয়ে দীনের কোনো প্রশ্ন থাকলে একজন আলেমকে জিজ্ঞাসা করুন।
আরোগ্য আল্লাহর কাছ থেকে
কুরআনে ইবরাহীম তাঁর রবের পরিচয় দিতে গিয়ে বলেন, তিনি রোগাক্রান্ত হলে তাঁর রবই তাঁকে আরোগ্য দান করেন।
‘এবং রোগাক্রান্ত হলে তিনিই আমাকে আরোগ্য দান করেন [১];
[১] অর্থাৎ আমি যখন অসুস্থ হই, তখন তিনিই আমাকে আরোগ্য দান করেন। এখানে লক্ষণীয় ব্যাপার যে, রোগাক্ৰান্ত হওয়াকে ইবরাহীম ‘আলাইহিস সালাম তার নিজের দিকে সম্পর্কযুক্ত করেছেন, যদিও আল্লাহ্র নির্দেশেই সবকিছু হয়। এটাই হল আল্লাহ্র সাথে আদাব বা শিষ্টাচার। [দেখুন-বাগভী, কুরতুবী]
আর কুরআন নিজের সম্পর্কে বলে, তা নাযিল করা হয় মুমিনদের জন্য আরোগ্য ও রহমত হিসেবে।
আর আমরা নাযিল করি কুরআন, যা মুমিনদের জন্য আরোগ্য ও রহমত [১], কিন্তু তা যালিমদের ক্ষতিই বৃদ্ধি করে [২]।
[১] কুরআন যে অন্তরের ঔষধ এবং শির্ক, কুচরিত্র ও আত্মিক রোগসমূহ থেকে মনের মুক্তিদাতা, এটা সৰ্বজনস্বীকৃত সত্য। মুমিনরা এর দ্বারা উপকৃত হয় আর কাফেররা এর দ্বারা উপকৃত হতে পারে না।
[২] অর্থাৎ যারা এ কুরআনকে নিজেদের পথ প্রদর্শক হিসেবে গ্রহণ করে, তাদের জন্য তা নিরাময়। কিন্তু যেসব যালেম একে প্রত্যাখ্যান করে এবং এর পথ নির্দেশনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, এ কুরআন তাদেরকে আরো বেশী ক্ষতির মধ্যে ঠেলে দেয়। একথাটিই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি ছোট্ট তাৎপর্যবহ বাক্যের মধ্যে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, কুরআন হয় তোমার সপক্ষে প্রমাণ আর নয়তো তোমার বিপক্ষে প্রমাণ। [মুসলিম ২২৩।
রোগী দেখতে গিয়ে পড়ার দু‘আ ও রুকইয়াহ
পকেট সঙ্গী-র “জীবনের নানা সময়ের দু‘আ” সেটে “অসুস্থতা ও রোগী” নামে একটি কার্ড আছে; স্থানীয় সংস্করণে তা দুই অংশে ছাপা। এর লেবেল ও সূত্রের লাইনগুলো কার্ডে ইংরেজিতে ছাপা; এখানে সেগুলোর অর্থ বলা হলো।
প্রথম পাঠটি রোগীকে উদ্দেশ করে পড়ার দু‘আ: মহান আল্লাহ, মহান আরশের রবের কাছে তার আরোগ্য চাওয়া। এর লেবেলের অর্থ ‘রোগী দেখতে গিয়ে · ৭ বার’; সংখ্যাটি কার্ডের নিজের। লাইব্রেরি এর সূত্র দিয়েছে আবু দাউদ ও তিরমিযী, মান সহীহ। দুই গ্রন্থের হাদীসেই ইবনে আব্বাস বর্ণনা করেন, নবী ﷺ বলেছেন: কেউ যদি এমন রোগীকে দেখতে যায় যার মৃত্যুর সময় আসেনি, আর তার কাছে সাতবার এই কথা বলে, তবে আল্লাহ তাকে সেই রোগ থেকে আরোগ্য দেন; কার্ডের সূত্রের লাইন এ কথাই সংক্ষেপে বলে।
দ্বিতীয় পাঠ রুকইয়াহ: আল্লাহকে মানুষের রব ও কষ্ট দূরকারী বলে ডেকে আরোগ্য চাওয়া, কারণ তিনিই আরোগ্যদাতা, তিনি ছাড়া কোনো আরোগ্যদাতা নেই। লাইব্রেরি এর সূত্র দিয়েছে বুখারী, মান সহীহ। বুখারীর সেই হাদীসে আনাস এক অসুস্থ ব্যক্তির উপর এটি পড়েন, নবী ﷺ-এর রুকইয়াহ হিসেবে। সূত্রের লাইনে আরও লেখা আছে, যার অর্থ: ‘আল-ফাতিহা ও তিন সূরার সাথে’। কার্ডের পাঠ ওই হাদীসের রুকইয়াহর শেষ কথাগুলোর আগেই থেমে গেছে।
নিজের ব্যথার জন্য
কার্ডের দ্বিতীয় অংশে একটিই পাঠ, যিনি নিজে ব্যথায় আছেন তাঁর জন্য: যে কষ্ট অনুভব করেন ও যার আশঙ্কা করেন, তার অনিষ্ট থেকে আল্লাহ ও তাঁর কুদরতের আশ্রয় চাওয়া। লাইব্রেরি এর সূত্র দিয়েছে মুসলিম, মান সহীহ; সূত্রের লাইনে আরও লেখা আছে, যার অর্থ: ‘ব্যথার জায়গায় হাত রেখে’। উচ্চারণের লাইনে প্রথম শব্দটির পরে “(৩×)”, আর পরের শব্দগুলোর পরে “(৭×)” ছাপা আছে; এই পাতা চিহ্ন দুটি কার্ডে যেমন ছাপা তেমনই জানাচ্ছে।
আল-ফাতিহা ও তিন সূরা পড়া
পকেট সঙ্গীর “কুরআন সঙ্গী” সেটে “কখন কী পড়বেন” নামে একটি ছক আছে। তাতে অসুস্থতার সারির অর্থ: ‘আল-ফাতিহা · তিন সূরা, রুকইয়াহসহ’। ছকের শেষে সব সারির জন্য একটিই সূত্রের লাইন; তাতে বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী ও নাসাঈর নাম আছে, মান সহীহ। স্থানীয় সংস্করণে এই ছকের সারিগুলো শুধু ইংরেজিতে ছাপা, তাই ছকটি এই পাতায় দেখানো হয়নি; সেটি আছে পকেট সঙ্গীর এই জায়গায়।
বুখারীর দুটি হাদীসে রোগীর উপর পড়ার কথা আছে। একটিতে আয়েশা বর্ণনা করেন, নবী ﷺ অসুস্থ হলে নিজের উপর মু‘আওয়িযাত পড়ে ফুঁ দিতেন; আর অসুস্থতা যখন বেড়ে গেল, তখন তিনি নিজে সেগুলো পড়ে নবী ﷺ-এর হাত তাঁর শরীরে বুলিয়ে দিতেন। অন্যটিতে আবু সাঈদ খুদরী বর্ণনা করেন, এক সাহাবী সাপে কাটা বা বিচ্ছুর দংশনে আক্রান্ত এক গোত্রপ্রধানের উপর রুকইয়াহ হিসেবে আল-ফাতিহা পড়েন, আর তিনি সেরে ওঠেন; হাদীসটি এরপর বলে, তাঁরা জিজ্ঞেস করলে নবী ﷺ তা অনুমোদন করেন এবং তাঁদের পারিশ্রমিক নিতে বলেন।
তিন সূরা কার্ডে আল-ইখলাস, আল-ফালাক ও আন-নাস ছাপা আছে, আর আল-ফাতিহা আছে অ্যাপের কুরআন অংশে। রোগীর উপর এগুলো কতবার পড়া হবে, তা ছকে বা কার্ডে বলা নেই, আর এই পাতাও তা বলে না।
পারস্পরিক হকের মধ্যে রোগী দেখতে যাওয়া
লাইব্রেরির আদব ও আখলাক শিরোনামের শেষ কার্ডটির নাম “পারস্পরিক হক”: বাবা-মা, প্রতিবেশী ও পথের হক। স্থানীয় সংস্করণে তা দুই অংশে ছাপা। দ্বিতীয় অংশের শেষ লাইনে মুসলিমের উপর মুসলিমের ছয়টি হকের কথা আছে, আর “অসুস্থ হলে দেখতে যাওয়া” তার একটি। লাইব্রেরি এই লাইনের সূত্র দিয়েছে মুসলিম, মান সহীহ। অংশটির একেবারে শুরুতে সূত্রের যে লাইনটি দেখা যায়, সেটি আগের অংশের শেষ লাইনের সূত্র।
এর আগের কার্ড “রোগী ও মেহমান”-এর প্রথম অংশে রোগী দেখার আদব আছে, আর তার নিচে একটি ছোট দু‘আ। অংশটি এখানে দেখানো হয়নি: তার একটি বাংলা লাইনের শব্দ নিয়ে একটি প্রশ্নের মীমাংসা লাইব্রেরির নিজস্ব যাচাইয়ে এখনও হয়নি। কার্ডে যেমন ছাপা, তেমনই সেটি আছে আদব ও আখলাকের এই জায়গায়।
সূত্র
কুরআনের আয়াত, সূরা ও আয়াত নম্বরে, উপরে দেখানো: ১৭:৮২; ২৬:৮০। লেখায় উল্লেখিত: সূরা ১ (আল-ফাতিহা)।
হাদীস, গ্রন্থ ও নম্বরে, sunnah.com যেভাবে নম্বর দেয়: বুখারী ফাতহুল বারীর নম্বর অনুযায়ী; মুসলিম মুহাম্মাদ ফুয়াদ আবদুল বাকীর নম্বর অনুযায়ী, আর sunnah.com যেখানে একটি নম্বরকে ভাগ করেছে সেখানে তার বর্ণ (ক = a, খ = b) সহ; আবু দাউদ ও তিরমিযী sunnah.com-এর নম্বর অনুযায়ী। লাইব্রেরি প্রতিটি পাঠের নিচে গ্রন্থের নাম দিয়েছে; নম্বরটি সেই হাদীসের।
- রোগী দেখতে গিয়ে সাতবার পড়ার দু‘আ: সুনান আবু দাউদ ৩১০৬; জামি‘ তিরমিযী ২০৮৩।
- আনাস যেভাবে রুকইয়াহ পড়েছিলেন: সহীহ বুখারী ৫৭৪২।
- নিজের ব্যথার জন্য, ব্যথার জায়গায় হাত রেখে: সহীহ মুসলিম ২২০২।
- অসুস্থতায় মু‘আওয়িযাত পড়া: সহীহ বুখারী ৫০১৬।
- রুকইয়াহ হিসেবে আল-ফাতিহা পড়া: সহীহ বুখারী ৫৭৩৬।
- মুসলিমের ছয় হক: সহীহ মুসলিম ২১৬২খ।
সাবীল লাইব্রেরি থেকে: পকেট সঙ্গী, “অসুস্থতা ও রোগী” কার্ডের দুই অংশ, আর “কখন কী পড়বেন” ছক ও তিন সূরা কার্ড, লিংক হিসেবে; আদব ও আখলাক, “পারস্পরিক হক” কার্ড, আর “রোগী ও মেহমান” কার্ড, লিংক হিসেবে, উদ্ধৃত নয়।
এরপর কোথায় যাবেন
- পকেট সঙ্গী: “জীবনের নানা সময়ের দু‘আ” ও “কুরআন সঙ্গী” সেট এখানে আছে, পড়ার বা কার্ড হিসেবে প্রিন্ট করার জন্য।
- আদব ও আখলাক: আদব ও পারস্পরিক হকের কার্ডগুলো।
- “ওষুধ” নামে লাইব্রেরির কার্ডটি আছে হালাল খাদ্য ও পানীয় শিরোনামে। সেটি এই পাতায় দেখানো হয়নি: ওই কার্ডের একটি মান নিয়ে একটি প্রশ্নের মীমাংসা লাইব্রেরির নিজস্ব যাচাইয়ে এখনও হয়নি।
- দুশ্চিন্তা, বিপদ ও দুঃখের দু‘আ: লাইব্রেরিতে দুশ্চিন্তা, বিপদ ও দুঃখের শিরোনামে যে দু‘আগুলো আছে।
সাবীলের মেইলবক্স তৈরি করা হচ্ছে। কেউ তা পড়া শুরু করলেই এই প্রবন্ধে সংশোধন বা মতামত পাঠানোর উপায় দেওয়া হবে।