সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার ও ক্ষমা প্রার্থনার দু‘আ
সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার, ইস্তিগফারের ছোট বাক্য, আবু বকরের দু‘আ ও আদমের দু‘আ, সাথে ক্ষমা চাওয়া নিয়ে কুরআনের আয়াত, প্রতিটি সূত্রের তালিকাসহ।
এআই-এর লেখা · আলেমদের পর্যালোচনা বাকি আছে
এই প্রবন্ধের কথাগুলো সাবীল লাইব্রেরি ও তার উৎসগুলো থেকে এআই লিখেছে, এবং এআই-ই সেগুলোর সাথে মিলিয়ে তা যাচাই করেছে। কোনো আলেম এখনও এটি পর্যালোচনা করেননি। আরবি পাঠ, সেগুলোর অর্থ ও সেগুলোর সূত্র লাইব্রেরি ও কুরআনের নিজস্ব, সেখানে যেমন আছে হুবহু তেমনই দেখানো। নিজের অবস্থার ব্যাপারে ফতোয়ার জন্য একজন যোগ্য আলেমকে জিজ্ঞেস করুন।
প্রকাশিত ৩ অক্টোবর, ২০২৬হালনাগাদ ২১ অক্টোবর, ২০২৬পড়তে ৮ মিনিট
আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া, অর্থাৎ ইস্তিগফার, হতে পারে একটি ছোট বাক্য, আবার হতে পারে দীর্ঘ একটি দু‘আ, যাতে মানুষ নিজের ভুল স্বীকার করে তাঁর দিকে ফিরে আসে। এই পাতায় সাবীল লাইব্রেরি থেকে ক্ষমা প্রার্থনার কয়েকটি দু‘আ আর এ বিষয়ে কুরআনের দুটি আয়াত এক জায়গায় আনা হয়েছে, আর বলা হয়েছে কোনটি কোথায় পড়া হয়: সারাদিন, নামাযের ভেতরে, নামাযের পরে। প্রতিটি দু‘আ তার আরবি, উচ্চারণ, অর্থ ও লাইব্রেরির দেওয়া সূত্রসহ দেখানো হয়েছে; আর যেসব হাদীস থেকে এগুলো এসেছে, শেষে সেগুলোর নম্বর দেওয়া আছে, যাতে আপনি নিজে খুলে দেখতে পারেন। কিছু আয়াতের নিচে সংস্করণের নিজের টীকাও দেখানো হয়; সেগুলো সংস্করণের নিজের কথা, এই পাতার নয়।
ক্ষমা চাওয়া নিয়ে কুরআন যা বলে
কুরআন ক্ষমাপ্রার্থীদের বর্ণনা দেয়: কোনো অশ্লীল কাজ করে ফেললে বা নিজেদের প্রতি যুলুম করলে তারা আল্লাহকে স্মরণ করে, নিজেদের পাপের জন্য ক্ষমা চায়, আর জেনে-বুঝে আগের কাজ আবার করতে থাকে না।
আর যারা কোনো অশ্লীল কাজ করে ফেললে বা নিজেদের প্রতি যুলুম করলে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজেদের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। আল্লাহ ছাড়া আর কে পাপ ক্ষমা করবে [১]? এবং তারা যা করে ফেলে, জেনে-বুঝে তারা তা পুনরায় করতে থাকে না।
[১] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “কোনো এক ব্যক্তি গোনাহ করার পর বলল: হে আল্লাহ! আমি গোনাহ করেছি সুতরাং তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও। তখন আল্লাহ্ তা’আলা বললেন, আমার বান্দা গোনাহ করেছে এবং এটা জেনেছে যে, তার একজন রব আছে যিনি তার গোনাহ মাফ করবে ও তাকে পাকড়াও করবে; আমি আমার বান্দাকে ক্ষমা করে দিলাম। তারপর সে আবার আরেকটি গোনাহ করে আবারও বলল: হে রব! আমি গোনাহ করেছি সুতরাং আমাকে ক্ষমা করে দাও। তখন আল্লাহ তা’আলা বললেন: আমার বান্দা গোনাহ করেছে এবং এটা জেনেছে যে, তার একজন রব আছে যিনি তার গোনাহ মাফ করবে ও তাকে পাকড়াও করবে; আমি আমার বান্দাকে ক্ষমা করে দিলাম। তারপর সে আবার আরেকটি গোনাহ করে আবারও বলল: হে রব! আমি গোনাহ করেছি সুতরাং আমাকে ক্ষমা করে দাও। তখন আল্লাহ্ তা’আলা বললে, আমার বান্দা গোনাহ করেছে এবং এটা জেনেছে যে, তার একজন রব আছে যিনি তার গোনাহ মাফ করবে ও তাকে পাকড়াও করবে; আমি আমার বান্দাকে ক্ষমা করে দিলাম, সে যাই করুক না কেন।” [বুখারী ৭৫০৭, মুসলিম ২৭৫৮]
আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমাকে আবু বকর হাদীস শুনিয়েছে। আর আবু বকর সত্য বলেছে। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছেন, “কোনো লোক যদি গুনাহ করে, তারপর পাক-পবিত্র হয় এবং সালাত আদায় করে, তারপর আল্লাহ্র কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিবেন। তারপর তিনি উক্ত আয়াত তেলাওয়াত করলেন।” [তিরমিযী ৪০৬; ইবন মাজাহ ১৩৯৫; আবু দাউদ ১৫২১]
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন, “তোমরা দয়া কর, তোমাদেরকেও দয়া করা হবে, তোমরা ক্ষমা করে দাও আল্লাহও তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন, যারা কোনো কথা না শোনার জন্য নিজেদেরকে বন্ধ করে নিয়েছে তাদের জন্য ধ্বংস, যারা অন্যায় করার পর জেনে-বুঝে বারবার করে তাদের জন্যও ধ্বংস।” [মুসনাদে আহমাদ ২/১৬৫]
আর যারা নিজেদের প্রতি অবিচার করেছে, কুরআন সরাসরি তাদের সম্বোধন করে বলে, তারা যেন আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে নিরাশ না হয়।
বলুন, 'হে আমার বান্দাগণ! তোমরা যারা নিজেদের প্রতি অবিচার করেছ---আল্লাহর অনুগ্রহ হতে নিরাশ হয়ো না; নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গোনাহ ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু [১]।'
[১] ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা বলেন, কিছু লোক ছিল, যারা অন্যায় হত্যা করেছিল এবং অনেক করেছিল। আরও কিছু লোক ছিল, যারা ব্যভিচার করেছিল এবং অনেক করেছিল। তারা এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আরজ করল: আপনি যে ধর্মের দাওয়াত দেন তা তো খুবই উত্তম, কিন্তু চিন্তার বিষয় হল এই যে, আমরা অনেক জঘন্য গোনাহ করে ফেলেছি। আমরা যদি ইসলাম গ্রহণ করি, তবে আমাদের তওবা কবুল হবে কি? এর পরিপ্রেক্ষিতেই আলোচ্য আয়াত অবতীর্ণ হয় ৷ [বুখারী ৪৮১০, মুসলিম ১২২]
সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার
লাইব্রেরিতে “সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার” শিরোনামের দু‘আটি আছে দু‘আ সংকলন-এ। এতে বান্দা স্বীকার করে যে আল্লাহই তার রব ও স্রষ্টা, বলে যে সাধ্যমতো সে তাঁর অঙ্গীকারের উপর আছে, নিজের কৃতকর্মের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চায়, তাঁর নিয়ামত ও নিজের গুনাহ দুটোই স্বীকার করে, আর ক্ষমা চায়, কারণ তিনি ছাড়া কেউ গুনাহ ক্ষমা করে না।
লাইব্রেরি এর সূত্র দিয়েছে বুখারী, মান সহীহ; আর দু‘আর নিচে ইংরেজিতে ছাপা সূত্র-লাইনে সংক্ষেপে সেই ফযিলতের কথা আছে, যা হাদীসটি দিনে ও রাতে দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে পড়ার জন্য বলে। একই দু‘আ আছে সালাতের পরের যিকির পোস্টারে, “সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার” শিরোনামে, আর পকেট সঙ্গী-র “সকাল ও সন্ধ্যা” কার্ডের দ্বিতীয় ভাগে। ছাপা কার্ডে দু‘আটি সংক্ষেপে আছে, আর তা নিয়ে লাইব্রেরির নিজস্ব যাচাইয়ে একটি প্রশ্ন এখনো খোলা; স্ক্রিনে কার্ডটি পুরো পাঠ দেখায়।
ইস্তিগফারের ছোট বাক্য
লাইব্রেরিতে সবচেয়ে ছোট রূপটি একটি বাক্য: আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং তাঁরই দিকে ফিরে আসা। লাইব্রেরি এর সূত্র দিয়েছে বুখারী, মান সহীহ; আর সূত্র-লাইনে বলা আছে, নবী ﷺ দিনে সত্তরবারের বেশি এটি বলতেন।
সালাতের পরের যিকির পোস্টারে একই বাক্য আছে “ক্ষমা প্রার্থনা” শিরোনামে।
নামাযের ভেতরে: আবু বকরের দু‘আ
আবু বকর নবী ﷺ-এর কাছে নিজের নামাযে পড়ার জন্য একটি দু‘আ চেয়েছিলেন, আর তাঁকে এই দু‘আটি শেখানো হয়, যাতে বান্দা বলে যে সে নিজের ওপর অনেক জুলুম করেছে, আর আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা ও দয়া চায়। লাইব্রেরি এর সূত্র দিয়েছে বুখারী ও মুসলিম, মান সহীহ।
সালাতের যিকির শিটে দু‘আটি আছে “before the salām” (সালামের আগে) শিরোনামের অংশে। ওই অংশ নিয়ে শিটের টীকাটি ইংরেজিতে, “Within each rak‘ah” (প্রতি রাক‘আতের ভেতরে) শিরোনামের নিচে একেবারে শেষে। তাতে শেষ বৈঠকের ক্রম দেওয়া আছে: তাশাহহুদ, দরূদ, তারপর দুটি দু‘আ, যেগুলোর জায়গা নামাযের ভেতরে, পরে নয়। আবু বকরের দু‘আটি এর দ্বিতীয়টি, B চিহ্নিত। এর নিচের শেষ লাইন, “Part 3 · after every farḍ” (তৃতীয় অংশ · প্রতি ফরযের পর), শিটে এর পরের অংশের শিরোনাম; এটি এই দু‘আ সম্পর্কে কোনো কথা নয়।
পকেট সঙ্গী-র “সালামের আগে” কার্ডের দ্বিতীয় ভাগেও দু‘আটি আছে, ছাপা সংস্করণে সংক্ষেপে। কার্ডের শুরুতে লেখা: “শেষ বৈঠকে, আত-তাহিয়্যাত ও দরূদের পর — নামাযের ভেতরে, পরে নয়।”
নামাযের পরে: তিনবার ইস্তিগফার
শিটের তৃতীয় অংশ, প্রতি ফরয নামাযের পর, শুরু হয়েছে ইস্তিগফার দিয়ে: একটি ছোট বাক্য, যার পাশে লেবেল “3×”, অর্থাৎ তিনবার। লাইব্রেরি এর সূত্র দিয়েছে মুসলিম, মান সহীহ। পকেট সঙ্গীর “সালামের পর · ১–৪” কার্ডেও এটিই প্রথম।
কুরআন থেকে: আদমের কথা
দু‘আ সংকলনে কুরআনের দু‘আগুলোর মধ্যে একটির সূত্র-লাইন বলে, এটি আদমের কথা, ৭:২৩ আয়াত থেকে: নিজেদের উপর জুলুমের স্বীকারোক্তি, আর ক্ষমা ও দয়ার প্রার্থনা।
দু‘আটি যে আয়াত থেকে নেওয়া, কুরআনের পাঠে সেটি:
তারা বলল, ‘হে আমাদের রব! আমারা নিজেদের প্রতি যুলুম করছি। আর যদি আপনি আমাদেরকে ক্ষমা না করেন এবং দয়া না করেন, তবে অবশ্যই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হব [১]।’
[১] কাতাদা বলেন, তারা দু’জন নিজেদের লজ্জাস্থান পরস্পর দেখতে পেত না। কিন্তু অপরাধের পর সেটা প্রকাশ হয়ে পড়ল। তখন আদম আলাইহিস সালাম বললেন, হে রব! যদি আমি তাওবা করি এবং ক্ষমা চাই তাহলে কি হবে আমাকে জানান? আল্লাহ বললেন, তাহলে আমি তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবো। কিন্তু ইবলীস ক্ষমা চাইলো না, বরং সে অবকাশ চাইল। ফলে আল্লাহ প্রত্যেককে তার প্রার্থিত বিষয় দান করলেন। [আত-তাফসীরুস সহীহ]
আদমের দু‘আ ও আবু বকরের দু‘আ, দুটিই শুরু হয় নিজের উপর যুলুমের স্বীকারোক্তি দিয়ে, তারপর ক্ষমা ও দয়ার প্রার্থনা।
সূত্র
কুরআনের আয়াত, সূরা ও আয়াত নম্বরে, উপরে দেখানো: ৩:১৩৫; ৭:২৩; ৩৯:৫৩।
হাদীস, গ্রন্থ ও নম্বরে, sunnah.com যেভাবে নম্বর দেয়: বুখারী ফাতহুল বারীর নম্বর অনুযায়ী; মুসলিম মুহাম্মাদ ফুয়াদ আবদুল বাকীর নম্বর অনুযায়ী, আর sunnah.com যেখানে একটি নম্বরকে ভাগ করেছে সেখানে তার বর্ণ (ক = a, খ = b) সহ। লাইব্রেরি প্রতিটি দু‘আর নিচে গ্রন্থের নাম দিয়েছে; নম্বরটি সেই হাদীসের।
- সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার: সহীহ বুখারী ৬৩০৬।
- ইস্তিগফারের ছোট বাক্য, দিনে সত্তরবারের বেশি: সহীহ বুখারী ৬৩০৭।
- আবু বকরের দু‘আ: সহীহ বুখারী ৮৩৪; সহীহ মুসলিম ২৭০৫ক।
- নামাযের পর তিনবার ইস্তিগফার: সহীহ মুসলিম ৫৯১।
সাবীল লাইব্রেরি থেকে: দু‘আ সংকলন, “রাব্বানা · ৩”, “সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার” ও “সংক্ষেপে ক্ষমা” কার্ড; সালাতের যিকির, “Within each rak‘ah”, আবু বকরের দু‘আ ও ইস্তিগফার; সালাতের পরের যিকির ও পকেট সঙ্গী, লিংক হিসেবে, উদ্ধৃত নয়।
এরপর কোথায় যাবেন
- সকাল ও সন্ধ্যা পাতায় সালাতের পরের যিকির পোস্টারের দু‘আ ও যিকিরগুলো ক্রমানুসারে আছে, সাইয়্যিদুল ইস্তিগফারসহ।
- নামাজকে ঘিরে ও নামাজের পর পাতা সালাতের যিকির শিটের ক্রম অনুসরণ করে: আযান থেকে সালাম পর্যন্ত, আর সালামের পর থেকে। “Within each rak‘ah” শিরোনামের নিচে দুই সিজদার মাঝে ক্ষমা চাওয়ার একটি ছোট বাক্য আছে।
- তাসবীহ গণনা একটি সাধারণ গণনাযন্ত্র, নামাযের পর ও সারাদিনের জন্য।
- রমাদান-এর “শেষ দশ” কার্ডের দ্বিতীয় ভাগে “Laylat al-Qadr” (লাইলাতুল কদর) লেবেলের নিচে একটি দু‘আ আছে, যাতে ক্ষমা চাওয়া হয়; লাইব্রেরি এর সূত্র দিয়েছে তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ, মান সহীহ।
সাবীলের মেইলবক্স তৈরি করা হচ্ছে। কেউ তা পড়া শুরু করলেই এই প্রবন্ধে সংশোধন বা মতামত পাঠানোর উপায় দেওয়া হবে।