মূল অংশে যান
কুরআনের আরবি · সব পাঠ
ধাপ ০ · পাঠ ১৫

হামযাহ আর তার আসন (কুরসি)

আলিফ, ওয়াও কিংবা ইয়ার ওপরে লেখা হামযাহ, টানা রেখায় বসানো ছোট হামযাহ, আর মাদ্দাহসহ আলিফ, যে রূপটি অন্য ছাপায় ব্যবহার হয়।

এআই-এর লেখা ও যাচাই করা

এই পাঠগুলো এআই লিখেছে এবং এআই-ই যাচাই করেছে; আরবির কোনো শিক্ষক এখনও এগুলো পড়েননি। আয়াত, সেগুলোর অর্থ ও প্রতিটি শব্দের বিশ্লেষণ নিজ নিজ উৎস থেকে নেওয়া, আর যেখানে দেখানো হয় সেখানে উৎসের নাম দেওয়া আছে।

সপ্তম পাঠে শেখানো হয়েছে লাইনের ওপরে একা দাঁড়ানো হামযাহ। বেশির ভাগ সময় এটি লেখা হয় অন্য একটি অক্ষরের ওপরে, যে অক্ষরটি তাকে বহন করে আর নিজে কিছু বলে না: তার আসন, কায়দায় যাকে কুরসি বলা হয়। তিনটি অক্ষর আসন হয়: আলিফ, ওয়াও আর ইয়া; আর হামযাহ বহন করলে ইয়া তার বিন্দু হারায়। কোন শব্দে কোন আসন, তা বানানের নিয়মে ঠিক হয়, যা পড়ার জন্য শেখার দরকার নেই: হামযাহর জন্য যে স্বরচিহ্ন লেখা আছে, সেটি দিয়ে হামযাহ পড়ুন, আর আসনটি পেরিয়ে যান।

অক্ষরগুলো

  • উপরে হামযাহসহ আলিফ
    أ
    1. أএকা
    2. ‍أশব্দের শেষে
  • নিচে হামযাহসহ আলিফ
    إ
    1. إএকা
    2. ‍إশব্দের শেষে
  • হামযাহসহ ওয়াও
    ؤ
    1. ؤএকা
    2. ‍ؤশব্দের শেষে
  • হামযাহসহ ইয়া
    ئ
    1. ئএকা
    2. ئ‍শব্দের শুরুতে
    3. ‍ئ‍শব্দের মাঝে
    4. ‍ئশব্দের শেষে
  • মাদ্দাহসহ আলিফ
    آ
    1. آএকা
    2. ‍آশব্দের শেষে

আলিফের ওপরে

আলিফে হামযাহ লেখা হয় তার ওপরে কিংবা নিচে, আর এই লেখায় জায়গাটিই স্বর বলে দেয়। ওপরে লেখা হলে হামযাহর সঙ্গে থাকে যবর, পেশ, দুই পেশ কিংবা জযম, কখনো যের নয়। নিচে লেখা হলে তার সঙ্গে সব সময় যের, কিংবা দুই যের।

ওয়াও আর ইয়ার ওপরে

হামযাহসহ ওয়াওতে হামযাহটি থাকে ওয়াওয়ের গোল মাথার ওপরে। হামযাহসহ ইয়াতে হামযাহটি থাকে বিন্দুহীন একটি ইয়ার দেহে: শব্দের ভেতরে এটি দেখতে প্রথম পাঠের খাটো দাঁতের মতো টানটির মতো, বিন্দুর জায়গায় ওপরে একটি হামযাহ। বেশির ভাগ সময় এর সঙ্গে থাকে যের।

ছোট হামযাহ

  • بٔছোট হামযাহ

কিছু শব্দে হামযাহ লেখা হয় ছোট করে, দুটি অক্ষরের মাঝে, একটি টানা রেখার (অষ্টম পাঠ) ওপরে, আর তার নিজের স্বরচিহ্নটি রেখার ওপরে তার পাশে। এখানে এটি দেখানো হয়েছে একটি বা-এর ওপরে; লেখায় এটি টানা রেখায় চড়ে থাকে, যা নিচের বানানে নাম ধরে দেখানো আছে।

মাদ্দাহসহ আলিফ

অন্য ছাপায় আলিফ আর তার মাদ্দাহ একটি অক্ষর হিসেবে লেখা হয়: মাদ্দাহসহ আলিফ, ওপরের শেষ কার্ডটি। এই লেখায় আলিফটি লেখা হয় আর তারপর মাদ্দাহ তার ওপরের একটি চিহ্ন হিসেবে (চতুর্দশ পাঠ), তাই এই রূপটি এখানে নেই; অন্য বইয়ে আপনি এটি দেখতে পাবেন।

কুরআনে

সূরা আল-ফাতিহার শেষ আয়াতে তৃতীয় শব্দটি শুরু হয়েছে ওপরে হামযাহসহ আলিফ দিয়ে, আর একটি যবর।

أَنْعَمْتَ
অক্ষরে অক্ষরে
  1. أَউপরে হামযাহসহ আলিফ+ ফাতহাহ (যবর)
  2. نْনূন+ সুকূন (জযম)
  3. عَআইন+ ফাতহাহ (যবর)
  4. مْমীম+ সুকূন (জযম)
  5. تَতা+ ফাতহাহ (যবর)
কুরআন ১:৭

পঞ্চম আয়াতের প্রথম শব্দটি শুরু হয়েছে নিচে হামযাহসহ আলিফ দিয়ে, আর তার যের।

إِيَّاكَ
অক্ষরে অক্ষরে
  1. إِনিচে হামযাহসহ আলিফ+ কাসরাহ (যের)
  2. يَّইয়া+ শাদ্দাহ (তাশদীদ)+ ফাতহাহ (যবর)
  3. اআলিফ
  4. كَকাফ+ ফাতহাহ (যবর)
কুরআন ১:৫

হামযাহসহ একটি ওয়াও, জযমসহ।

يُؤْمِنُونَ
অক্ষরে অক্ষরে
  1. يُইয়া+ দাম্মাহ (পেশ)
  2. ؤْহামযাহসহ ওয়াও+ সুকূন (জযম)
  3. مِমীম+ কাসরাহ (যের)
  4. نُনূন+ দাম্মাহ (পেশ)
  5. وওয়াও
  6. نَনূন+ ফাতহাহ (যবর)
কুরআন ৮৪:২০

হামযাহসহ একটি ইয়া, যেরসহ, শব্দের মাঝে।

سُئِلَتْ
অক্ষরে অক্ষরে
  1. سُসীন+ দাম্মাহ (পেশ)
  2. ئِহামযাহসহ ইয়া+ কাসরাহ (যের)
  3. لَলাম+ ফাতহাহ (যবর)
  4. تْতা+ সুকূন (জযম)
কুরআন ৮১:৮

টানা রেখায় বসানো একটি ছোট হামযাহ, তার যবরসহ।

مَـَٔابًا
অক্ষরে অক্ষরে
  1. مَমীম+ ফাতহাহ (যবর)
  2. ـَٔটানা রেখা (তাতবীল)+ ছোট হামযাহ+ ফাতহাহ (যবর)
  3. اআলিফ
  4. بًবা+ দুই যবর (তানবীন)
  5. اআলিফ
কুরআন ৭৮:২২

একটি ছোট আয়াতে তিনটি আসন: প্রথম শব্দে নিচে হামযাহসহ আলিফ, তার যেরসহ; দ্বিতীয় শব্দের মাঝে হামযাহসহ ইয়া, যবরসহ; আর শেষ শব্দে ওপরে হামযাহসহ আলিফ, শব্দের শুরুর আলিফ আর লামের পরে, যবরসহ।

এই পাঠে যে অক্ষর ও চিহ্নগুলোর নাম বলা হয়েছে, সেগুলো আয়াতে চিহ্নিত করা হয়েছে।

إِنَّ شَانِئَكَ هُوَ ٱلْأَبْتَرُ

নিশ্চয় আপনার প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারীই তো নির্বংশ [১]।

Bengali Translation - Abu Bakr Zakaria · QuranEnc.com · version 1.1.1
কুরআন ১০৮:৩

মনে করুন

  • কোন তিনটি অক্ষর হামযাহর আসন হয়?
  • আলিফের নিচে লেখা হামযাহর সঙ্গে কোন স্বরচিহ্ন থাকে?
  • মাদ্দাহসহ আলিফ কি এই লেখায় আছে?

উত্তর: আলিফ, ওয়াও আর ইয়া; যের, কিংবা দুই যের; না, এই লেখায় আলিফ আর মাদ্দাহ আলাদা আলাদা লেখা হয়, আলিফটি অক্ষর হিসেবে আর মাদ্দাহ তার ওপরের চিহ্ন হিসেবে।

পরের পাঠ

পরের পাঠে আপনার চেনা অক্ষরের দুটি রূপ: তা মারবূতাহ আর আলিফ মাকসূরাহ।