ইফতারের দু‘আ
ইফতারের সময় পড়ার দু‘আ, কী দিয়ে ইফতার করা হয়, আর রোযা ও দু‘আ নিয়ে কুরআনের আয়াত, সাবীল লাইব্রেরি ও কুরআন থেকে, প্রতিটি সূত্রের তালিকাসহ।
এআই-এর লেখা · আলেমদের পর্যালোচনা বাকি আছে
এই প্রবন্ধের কথাগুলো সাবীল লাইব্রেরি ও তার উৎসগুলো থেকে এআই লিখেছে, এবং এআই-ই সেগুলোর সাথে মিলিয়ে তা যাচাই করেছে। কোনো আলেম এখনও এটি পর্যালোচনা করেননি। আরবি পাঠ, সেগুলোর অর্থ ও সেগুলোর সূত্র লাইব্রেরি ও কুরআনের নিজস্ব, সেখানে যেমন আছে হুবহু তেমনই দেখানো। নিজের অবস্থার ব্যাপারে ফতোয়ার জন্য একজন যোগ্য আলেমকে জিজ্ঞেস করুন।
প্রকাশিত ৩ অক্টোবর, ২০২৬হালনাগাদ ২১ অক্টোবর, ২০২৬পড়তে ৯ মিনিট
রাত এলে রোযা শেষ হয়, লাইব্রেরির কার্ড যাকে সূর্যাস্ত বলে, আর হাদীসে সেই মুহূর্তের জন্য একটি কথা আছে: পিপাসা দূর হলো আর ইন শা-আল্লাহ প্রতিদান নিশ্চিত হলো, এই কথার ছোট একটি দু‘আ। এই পাতায় সেই দু‘আ সাবীল লাইব্রেরির কোথায় আছে, কী দিয়ে ইফতার করা হয় বলে লাইব্রেরি জানায়, আর রোযা ও দু‘আ নিয়ে কুরআন কী বলে, তা বলা হয়েছে। প্রতিটি অংশ লাইব্রেরি থেকে দেখানো হয়েছে: আরবি পাঠ, উচ্চারণ, অর্থ, আর লাইব্রেরির দেওয়া সূত্র ও মান; হাদীসগুলোর নম্বর শেষে দেওয়া আছে। কিছু আয়াতের নিচে সংস্করণের নিজের টীকাও দেখানো হয়; সেগুলো সংস্করণের নিজের কথা, এই পাতার নয়। কীসে রোযা ভাঙে, বা আপনার জায়গায় ঠিক কখন রোযা শেষ হয়, এই পাতা তা বলে না: এগুলো বিধান ও স্থানীয় প্রশ্ন, তাই একজন আলেম ও আপনার মসজিদের কাছে জানার বিষয়।
কুরআনে রোযা
কুরআন রোযার বিধান দেয়, যেমন আগের লোকদের দেওয়া হয়েছিল, যাতে মুমিনরা তাকওয়ার অধিকারী হতে পারে।
হে মুমিনগণ ! তোমাদের জন্য সিয়ামের [১] বিধান দেয়া হল, যেমন বিধান তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে দেয়া হয়েছিল [২] , যাতে তোমরা তাকওয়ার অধিকারী হতে পার [৩]।
[১] (صوم) এর শাব্দিক অর্থ বিরত থাকা। শরীআতের পরিভাষায় আল্লাহ্র ইবাদতের উদ্দেশ্যে পানাহার এবং স্ত্রী সহবাস থেকে বিরত থাকার নাম ‘সাওম’। তবে সুবহে সাদিক উদয় হওয়ার পূর্ব থেকে শুরু করে সূর্যস্ত পর্যন্ত সিয়ামের নিয়্যতে একাধারে এভাবে বিরত থাকলেই তা সিয়াম বলে গণ্য হবে। সূর্যাস্তের এক মিনিট আগেও যদি কোনো কিছু খেয়ে ফেলে, পান করে কিংবা সহবাস করে, তবে সিয়াম হবে না। অনুরূপ উপায়ে সবকিছু থেকে পূর্ণ দিবস বিরত থাকার পরও যদি সিয়ামের নিয়্যত না থাকে, তবে তাও সিয়াম পালন হবে না। সিয়াম ইসলামের মূল ভিত্তি বা আরকানের অন্যতম। সিয়ামের অপরিসীম ফযীলত রয়েছে।
[২] মুসলিমদের প্রতি সিয়াম ফরয হওয়ার নির্দেশটি একটি বিশেষ নযীর উল্লেখসহ দেয়া হয়েছে। নির্দেশের সাথে সাথে এটাও উল্লেখ করা হয়েছে যে, সিয়াম শুধুমাত্র তোমাদের প্রতিই ফরয করা হয়নি, তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতগণের উপরও ফরয করা হয়েছিল। এর দ্বারা যেমন সিয়ামের বিশেষ গুরুত্ব বোঝানো হয়েছে, তেমনি মুসলিমদের এ মর্মে একটি শান্তনাও দেয়া হয়েছে যে, সিয়াম একটা কষ্টকর ‘ইবাদাত সত্য, তবে তা শুধুমাত্র তোমাদের উপরই ফরয করা হয়নি, তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিগুলোর উপরও ফরয করা হয়েছিল। কেননা সাধারণতঃ দেখা যায়, কোনো একটা কষ্টকর কাজে অনেক লোক একই সাথে জড়িত হয়ে পড়লে তা অনেকটা স্বাভাবিক এবং সাধারণ বলে মনে হয়। আয়াতের মধ্যে শুধু বলা হয়েছে যে, “সিয়াম যেমন মুসলিমদের উপর ফরয করা হয়েছে, তেমনি পূর্ববর্তী উম্মতগণের উপরও ফরয করা হয়েছিল’; এ কথা দ্বারা এ তথ্য বুঝায় না যে, আগেকার উম্মতগণের সিয়াম সমগ্র শর্ত ও প্রকৃতির দিক দিয়ে মুসলিমদের উপর ফরযকৃত সিয়ামেরই অনুরূপ ছিল। যেমন, সিয়ামের সময়সীমা, সংখ্যা এবং কখন তা রাখা হবে, এসব ব্যাপারে আগেকার উম্মতদের সিয়ামের সাথে মুসলিমদের সিয়ামের পার্থক্য হতে পারে, বাস্তব ক্ষেত্রে হয়েছেও তাই। বিভিন্ন সময়ে সিয়ামের সময়সীমা এবং সংখ্যার ক্ষেত্রে পার্থক্য হয়েছে। [মা'আরিফুল কুরআন]
[৩] এ বাক্যে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, তাকওয়া শক্তি অর্জন করার ব্যাপারে সিয়ামের একটা বিশেষ ভূমিকা বিদ্যমান। কেননা সিয়ামের মাধ্যমে প্রবৃত্তির তাড়না নিয়ন্ত্রণ করার ব্যাপারে বিশেষ শক্তি অর্জিত হয়। প্রকৃত প্রস্তাবে সেটাই ‘তাকওয়া’র ভিত্তি।
রোযার দিনের দুই সীমাও কুরআন বলে দেয়: ঊষার সাদা রেখা রাতের কালো রেখা থেকে স্পষ্ট হওয়া পর্যন্ত পানাহারের অনুমতি, আর রাত আসা পর্যন্ত সিয়াম পূর্ণ করা।
সিয়ামের রাতে তোমাদের জন্য স্ত্রী-সম্ভোগ বৈধ করা হয়েছে [১]। তারা তোমাদের পোষাকস্বরূপ এবং তোমরাও তাদের পোষাকস্বরূপ। আল্লাহ্ জানেন যে, তোমরা নিজদের সাথে খিয়ানত করছিলে। সুতরাং তিনি তোমাদের তওবা কবুল করেছেন এবং তোমাদেরকে মার্জনা করেছেন। কাজেই এখন তোমরা তাদের সাথে সংগত হও এবং আল্লাহ্ যা তোমাদের জন্য বিধিবদ্ধ করেছেন তা কামনা কর। আর তোমরা পানাহার কর যতক্ষণ রাতের কালোরেখা থেকে উষার সাদা রেখা স্পষ্টরূপে তোমাদের নিকট প্রকাশ না হয় [২]। তারপর রাতের আগমন পর্যন্ত সিয়াম পূর্ণ কর। আর তোমরা মসজিদে ইতিকাফরত [৩] অবস্থায় তাদের সাথে সংগত হয়ো না। এগুলো আল্লাহ্র সীমারেখা। কাজেই এগুলোর নিকটবতী হয়ো না [৪]। এভাবে আল্লাহ্ তাঁর আয়াতসমূহ মানুষদের জন্য সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেন, যাতে তারা তাকওয়ার অধিকারী হতে পারে।
[১] যে বিষয়টিকে এ আয়াত দ্বারা হালাল করা হয়েছে, তা ইতঃপূর্বে হারাম ছিল। বিভিন্ন হাদীসে উল্লেখ হয়েছে যে, প্রথম যখন রমাদানের সাওম ফরয করা হয়েছিল, তখন ইফতারের পর থেকে শয্যাগ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত খানা-পিনা ও স্ত্রী সহবাসের অনুমতি ছিল। একবার শয্যাগ্রহণ করে ঘুমিয়ে পড়ার সাথে সাথেই এ সবকিছু হারাম হয়ে যেত। কোনো কোনো সাহাবী এ ব্যাপারে অসুবিধায় পড়েন। কায়েস ইবন সিরমাহ আনসারী নামক জনৈক সাহাবী একবার সমগ্র দিন কঠোর পরিশ্রম করে ইফতারের সময় ঘরে এসে দেখেন, ঘরে খাওয়ার মত কোনো কিছুই নেই। স্ত্রী বললেন, একটু অপেক্ষা করুন, আমি কোনো স্থান থেকে কিছু সংগ্রহ করে আনার চেষ্টা করি। স্ত্রী যখন কিছু খাদ্য সংগ্রহ করে ফিরে এলেন তখন সারাদিনের পরিশ্রমের ক্লান্তিতে তিনি ঘুমিয়ে পড়েছেন। ইফতারের পর ঘুমিয়ে পড়ার দরুন খানা-পিনা তার জন্য হারাম হয়ে যায়। ফলে পরদিন তিনি এ অবস্থাতেই সাওম পালন করেন। কিন্তু দুপুর বেলায় শরীর দুর্বল হয়ে তিনি বেহুঁশ হয়ে পড়ে যান। [বুখারী ১৯১৫]
অনুরূপভাবে কোনো কোনো সাহাবী গভীর রাতে ঘুম ভাঙ্গার পর স্ত্রীদের সাথে সহবাসে লিপ্ত হয়ে মানসিক কষ্টে পতিত হন। এসব ঘটনার পর এ আয়াত নাযিল হয়, যাতে পূর্ববর্তী হুকুম রহিত করে সূর্যাস্তের পর থেকে শুরু করে সুবহে-সাদিক উদিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সমগ্র রাতেই খানা-পিনা ও স্ত্রী সহবাস বৈধ করা হয়েছে। ঘুমানোর আগে কিংবা ঘুম থেকে উঠার পর সম্পর্কে কোনো বাধ্যবাধকতাই এতে আর অবশিষ্ট রাখা হয়নি। এমনকি হাদীস অনুযায়ী শেষরাতে সেহরী খাওয়া সুন্নাত সাব্যস্ত করা হয়েছে। আলোচ্য আয়াতে এ সম্পর্কিত নির্দেশই প্রদান করা হয়েছে।
[২] আয়াতে রাতের অন্ধকারকে কালো রেখা এবং ভোরের আলো ফোটাকে সাদা রেখার সাথে তুলনা করে সাওমের শুরু এবং খানা-পিনা হারাম হওয়ার সঠিক সময়টি বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। অধিকন্তু এ সময়-সীমার মধ্যে কম-বেশী হওয়ার সম্ভাবনা যাতে না থাকে সে জন্য (حَتّٰى يَتَبَيَّنَ) শব্দটিও যোগ করে দেয়া হয়েছে। এতে সুস্পষ্টভাবে বলে দেয়া হয়েছে যে, সন্দেহপ্রবণ লোকদের ন্যায় সুবহে-সাদিক দেখা দেয়ার আগেই খানা-পিনা হারাম মনে করো না অথবা এমন অসাবধানতাও অবলম্বন করো না যে, সুবহে-সাদিকের আলো ফোটার পরও খানা-পিনা করতে থাকবে। বরং খানা-পিনা এবং সাওমের মধ্যে সুবহে-সাদিকের উদয় সঠিকভাবে নির্ণয়ই হচ্ছে সীমারেখা। এ সীমারেখা উদয় হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত খানা-পিনা বন্ধ করা জরুরী মনে করা যেমন জায়েয নয়, তেমনি সুবহে-সাদিক উদয় হওয়ার ব্যাপারে ইয়াকীন হয়ে যাওয়ার পর খানা-পিনা করাও হারাম এবং সাওম নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণ, তা এক মিনিটের জন্য হলেও। সুবহে-সাদিক উদয় হওয়া সম্পর্কে ইয়াকীন হওয়া পর্যন্তই সেহরীর শেষ সময়। [মা'আরিফুল কুরআন]
[৩] ইতিকাফ-এর শাব্দিক অর্থ কোনো এক স্থানে অবস্থান করা কুরআন-সুন্নাহর পরিভাষায় কতগুলো বিশেষ শর্তসাপেক্ষে একটা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে নির্দিষ্ট মসজিদে অবস্থান করাকে ইতিকাফ বলা হয়। জামা'আত হয় এমন যে কোনো মসজিদেই ই’তেকাফ হতে পারে। ইতিকাফের অবস্থায় খানা-পিনার হুকুম সাধারণত সাওম পালনকারীদের প্রতি প্রযোজ্য নির্দেশেরই অনুরূপ। তবে স্ত্রী সহবাসের ব্যাপারে এ অবস্থায় পৃথক নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছে যে, ইতিকাফ অবস্থায় এটা রাতের বেলায়ও জায়েয নয়।
[৪] অর্থাৎ সাওমের মধ্যে খানা-পিনা এবং স্ত্রী সহবাস সম্পর্কিত যেসব নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, এগুলো আল্লাহ্ কর্তৃক নির্ধারিত সীমারেখা, এর ধারে-কাছেও যেও না। কেননা কাছে গেলেই সীমালংঘনের সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। একই কারণে সাওম অবস্থায় কুলি করতে বাড়াবাড়ি করা, যদ্দরুন গলার ভেতর পানি প্রবেশ করতে পারে; মুখের ভেতর কোনো ঔষধ ব্যবহার করা, এসব ব্যাপার অসাবধানতা এবং শৈথিল্য প্রদর্শন আল্লাহ্র এ নির্দেশের পরিপন্থী। তাই সীমান্ত থেকে দূরে থাকাই নিরাপদ ব্যবস্থা। কারণ, ঐ সমস্ত সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম সীমান্ত রেখার মধ্যে পার্থক্য করা এবং তাদের কিনারে পৌছে নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ কথা নয়। এ ব্যাপারে সাবধান করে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “প্রত্যেক বাদশারই একটি সংরক্ষিত এলাকা রয়েছে। আল্লাহ্র সে সংরক্ষিত এলাকা হল তাঁর নির্ধারিত হারাম বিষয়সমূহ। যে ব্যক্তি এর চারদিকে ঘুরে বেড়ায় সে উক্ত সংরক্ষিত এলাকার মধ্যে পড়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।” [মুসলিম ২৬৮১]
আর রোযার আয়াতগুলোর মাঝখানেই কুরআন বলে, আল্লাহ অতি নিকটে, আহ্বানকারী যখন তাঁকে ডাকে তিনি তার ডাকে সাড়া দেন।
আর আমার বান্দা যখন আমার সম্পর্কে আপনাকে জিজ্ঞেস করে, (তখন বলে দিন যে) নিশ্চয় আমি অতি নিকটে। আহবানকারী যখন আমাকে আহবান করে আমি তার আহবানে সাড়া দেই। কাজেই তারাও আমার ডাকে সাড়া দিক এবং আমার প্রতি ঈমান আনুক, যাতে তারা সঠিক পথে চলতে পারে [১]।
[১] পূর্ববতী আয়াতগুলোতে রামাদানের হুকুম-আহকাম বর্ণনা করা হয়েছে। তারপর একটি সুদীর্ঘ আয়াতে সাওম ও ইতিকাফের বিবরণ বর্ণিত হয়েছে। এখানে মাঝখানে বর্তমান সংক্ষিপ্ত আয়াতটিকে বান্দাদের অবস্থার প্রতি মহান রবের অনুগ্রহ এবং তাদের প্রার্থনা শ্রবণ ও কবুল করার বিষয় আলোচনা করে নির্দেশ পালনে উৎসাহিত করা হচ্ছে। কারণ, সাওম সংক্রান্ত ‘ইবাদাতে অবস্থাবিশেষে অব্যাহতি দান এবং বিভিন্ন সহজতা সত্বেও কিছু কষ্ট বিদ্যমান রয়েছে। এ কষ্টকে সহজ করার উদ্দেশ্যে আল্লাহ্র বিশেষ অনুগ্রহের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে যে, আমি আমার বান্দাদের সন্নিকটে রয়েছি, যখনই তারা আমার কাছে কোনো বিষয়ে দো'আ করে, আমি তাদের সে দোআ কবুল করে নেই এবং তাদের বাসনা পূরণ করে দেই। এমতাবস্থায় আমার হুকুম-আহকাম মেনে চলা বান্দাদেরও একান্ত কর্তব্য। তাতে কিছুটা কষ্ট হলেও তা সহ্য করা উচিত। ইমাম ইবন কাসীর দো'আর প্রতি উৎসাহ দান সংক্রান্ত এই মধ্যবর্তী বাক্যটির তাৎপর্য বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেছেন যে, এ আয়াতের দ্বারা সাওম রাখার পর দোআ কবুল হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। সে জন্যই সাওমের ইফতারের পর দোআর ব্যাপারে বিশেষ তৎপরতা অবলম্বন করা উচিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, “সিয়াম পালনকারীর দো'আ ফিরিয়ে দেয়া হয় না অর্থাৎ কবুল হয়ে থাকে। [ইবন মাজাহ ১৭৫৩] সে জন্যই আব্দুল্লাহ ইবন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা ইফতারের সময় পরিবার পরিজনকে ডাকতেন এবং দো'আ করতেন। [ইবন কাসীর]
পকেট সঙ্গীর “রমযান” কার্ডে দু‘আটি
পকেট সঙ্গী-র “হিজরি সঙ্গী” সেটে “রমযান” শিরোনামের একটি কার্ড আছে, তিন অংশে। লেবেল ও সূত্রের লাইনগুলো কার্ডে ইংরেজিতে ছাপা; এখানে সেগুলোর অর্থ বলা হয়েছে।
প্রথম অংশ “The month”, অর্থাৎ মাস: একটি লাইনেই পুরো মাস, রোযা, তারাবীহ, লাইলাতুল কদর খোঁজা, ই‘তিকাফ ও যাকাতুল ফিতর, প্রতিটির পাশে কার্ডের দেওয়া সময়। লাইব্রেরি এই লাইনের সূত্র দিয়েছে বুখারী ও মুসলিম, মান সহীহ।
দ্বিতীয় অংশ “Breaking the fast”, অর্থাৎ ইফতার: একটি ছোট বাক্য, যাতে বলা হয় পিপাসা দূর হলো, শিরা সিক্ত হলো, আর ইন শা-আল্লাহ প্রতিদান নিশ্চিত হলো। লাইব্রেরি এর সূত্র দিয়েছে আবু দাউদ, মান হাসান। সেই হাদীসে ইবনে উমর বর্ণনা করেন, নবী ﷺ ইফতার করার সময় এটি বলতেন। সূত্রের লাইনের শেষ কথাটির অর্থ: খেজুর, বা পানি দিয়ে ইফতার করুন।
তৃতীয় অংশ “Laylat al-Qadr”, অর্থাৎ লাইলাতুল কদর: আল্লাহ ক্ষমা করতে ভালোবাসেন বলে তাঁর কাছে ক্ষমা চাওয়ার দু‘আ। লাইব্রেরি এর সূত্র দিয়েছে তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ, মান সহীহ। তিরমিযী তাঁর হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন; অ্যাপের হাদীস ডেটাসেটে যেসব পরবর্তী আলেমের মান আছে, তাঁদের তিনজন দুটি হাদীসকেই সহীহ বা হাসান সহীহ বলেছেন, আর একজন, যুবায়ের আলী যাঈ, দুটিকেই দুর্বল বলেছেন। দুই গ্রন্থেই আয়েশা নবী ﷺ-কে জিজ্ঞেস করেন, সেই রাত কোনটি জানতে পারলে বা পেলে তিনি কী বলবেন, আর তাঁকে দু‘আটি শেখানো হয়; ইবনে মাজাহর শব্দ কার্ডের শব্দই, তিরমিযীর শব্দে একটি শব্দ বেশি আছে। রাতটি নিয়ে আলাদা একটি লেখা আছে।
রমাদান পোস্টারের মাগরিবের সারি
রমাদান পোস্টার-এ রোযার দিনটি নম্বর দেওয়া সারিতে সাজানো। ০৪ নম্বর সারির শিরোনাম “মাগরিব — সঙ্গে সঙ্গে ইফতার”। এতেও একই দু‘আ আছে, অর্থসহ, তারপর আরও দুটি বাক্য: কী দিয়ে ইফতার করা হয়, তাজা খেজুর, বা শুকনো, বা পানি; আর রোযাদারের দু‘আ নিয়ে একটি বাক্য, যা নিচে সারির সাথেই দেখানো আছে।
সারির সূত্রের লাইনটি ইংরেজিতে ছাপা, তাতে আবু দাউদ ও তিরমিযী, প্রতিটির মান হাসান। আনাসের হাদীস, দুই গ্রন্থেই, বলে: নবী ﷺ নামাযের আগে তাজা খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন; তাজা খেজুর না থাকলে শুকনো খেজুর, আর তা-ও না থাকলে কয়েক ঢোক পানি। তিরমিযীর একটি হাদীসে আছে: তিন ব্যক্তির দু‘আ ফেরানো হয় না, তাদের একজন রোযাদার। এর আরবিতে আছে, রোযাদার যতক্ষণ না ইফতার করে; sunnah.com-এর ইংরেজিতে আছে ইফতারের সময়, আর সেই শব্দ তিরমিযীর আরেকটি হাদীসের, যার সনদকে তিরমিযী নিজে মজবুত নয় বলেছেন। তিরমিযী প্রথমটিকে হাসান বলেছেন, পোস্টারও সেই মান দিয়েছে; পরবর্তী আলেমদের মধ্যে এ নিয়ে মতভেদ আছে, তাঁদের কেউ কেউ একে দুর্বল বলেছেন।
শিরোনামের “সঙ্গে সঙ্গে” কথাটি পোস্টারের নিজের। বুখারী ও মুসলিমে সাহল ইবনে সা‘দের হাদীস বলে, মানুষ ততদিন কল্যাণের উপর থাকবে যতদিন তারা দ্রুত ইফতার করবে। আপনার জায়গায় সূর্যাস্তের মুহূর্ত কীভাবে ঠিক হয়, তা স্থানীয় সময়সূচির প্রশ্ন: নিচে অ্যাপের রমাদান পাতা দেখুন।
তার আগের সারি: জিহ্বা সংযত রাখা
পোস্টারের ০৩ নম্বর সারির শিরোনাম “সারাদিন — জিহ্বা সংযত রাখুন”। কেউ গালি দিলে বা ঝগড়া বাধালে কী বলতে হবে, সারিটি তা বলে: একটি ছোট কথা, যার অর্থ সারিতে দেওয়া হয়েছে “আমি রোযাদার”; আর শেষে মিথ্যা কথা নিয়ে একটি বাক্য। লাইব্রেরি এই সারির সূত্র দিয়েছে বুখারী, মান সহীহ। বুখারীতে আবু হুরায়রা দুটিই বর্ণনা করেন: কেউ রোযাদারের সাথে ঝগড়া করলে বা গালি দিলে সে যেন দুবার বলে, আমি রোযাদার; আর যে মিথ্যা কথা ও সে অনুযায়ী কাজ ছাড়ে না, তার খাদ্য-পানীয় ছাড়ায় আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।
এই পাতায় যা উদ্ধৃত হয়নি
লাইব্রেরির রমাদান কার্ডগুলোতে “সাহরি ও ইফতার” শিরোনামের একটি কার্ডও আছে, দুই ভাগে ছাপা (প্রথম ভাগ, দ্বিতীয় ভাগ)। এর একটি লাইন নিয়ে একটি প্রশ্নের মীমাংসা লাইব্রেরির নিজস্ব যাচাইয়ে হয়নি; তাই কার্ডটির ঠিকানা দেওয়া হলো, এখানে উদ্ধৃত হয়নি।
সূত্র
কুরআনের আয়াত, সূরা ও আয়াত নম্বরে, উপরে দেখানো: ২:১৮৩; ২:১৮৬; ২:১৮৭।
হাদীস, গ্রন্থ ও নম্বরে, sunnah.com যেভাবে নম্বর দেয়: বুখারী ফাতহুল বারীর নম্বর অনুযায়ী; মুসলিম মুহাম্মাদ ফুয়াদ আবদুল বাকীর নম্বর অনুযায়ী, আর sunnah.com যেখানে একটি নম্বরকে ভাগ করেছে সেখানে তার বর্ণ (ক = a, খ = b) সহ; আবু দাউদ, তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ sunnah.com-এর নম্বর অনুযায়ী। লাইব্রেরি প্রতিটি অংশের নিচে গ্রন্থের নাম দিয়েছে; নম্বরগুলো ওপরে বর্ণিত হাদীসের।
- ইফতারের দু‘আ: সুনান আবু দাউদ ২৩৫৭।
- তাজা খেজুর, শুকনো খেজুর বা পানি দিয়ে ইফতার: সুনান আবু দাউদ ২৩৫৬; জামি‘ তিরমিযী ৬৯৬।
- তিন ব্যক্তির দু‘আ ফেরানো হয় না, তাদের মধ্যে রোযাদার: জামি‘ তিরমিযী ৩৫৯৮ (তিরমিযীর মতে হাসান; অন্যদের কেউ কেউ দুর্বল বলেছেন); ইফতারের সময়ের শব্দে: জামি‘ তিরমিযী ২৫২৬ (তিরমিযীর মতে এর সনদ মজবুত নয়)।
- দ্রুত ইফতার: সহীহ বুখারী ১৯৫৭; সহীহ মুসলিম ১০৯৮ক।
- কেউ ঝগড়া করলে নিজের রোযার কথা বলা: সহীহ বুখারী ১৮৯৪।
- মিথ্যা কথা ও রোযা: সহীহ বুখারী ১৯০৩।
- লাইলাতুল কদরের দু‘আ: জামি‘ তিরমিযী ৩৫১৩ (তিরমিযীর মতে হাসান সহীহ); সুনান ইবনে মাজাহ ৩৮৫০; পরবর্তী একজন আলেম দুটিকেই দুর্বল বলেছেন।
সাবীল লাইব্রেরি থেকে: পকেট সঙ্গী, “রমযান” কার্ড; রমাদান পোস্টার, ০৩ ও ০৪ নম্বর সারি; রমাদান, “সাহরি ও ইফতার” কার্ড, লিংক হিসেবে, উদ্ধৃত নয়।
এরপর কোথায় যাবেন
- অ্যাপের রমাদান পাতায় আপনার জায়গার জন্য মাসের প্রতিটি দিনের পাশে “ইফতার” ঘরে একটি সময় দেখানো হয়। সময়টি আপনার ডিভাইসেই হিসাব করা হয়। পাতার নিজের টীকা অনুযায়ী এটি আপনার জায়গার জন্য হিসাব করা মাগরিবের শুরু, আর এতে “কোনো বাড়তি সময় যোগ করা হয়নি”। টীকার শেষ কথা: “আপনার মসজিদ নিজস্ব সময় ঘোষণা করলে সেটিই অনুসরণ করুন।”
- শহর অনুযায়ী নামাজের সময় পাতায় আছে সাবীল যেসব শহর নামে চেনে, সেগুলোর আজকের সময় ও এই মাসের সময়সূচি।
- পকেট সঙ্গী কার্ড হিসেবে প্রিন্ট করা যায়, আর রমাদান পোস্টার পোস্টার হিসেবে। মাসটি নিয়ে লাইব্রেরির কার্ডগুলো আছে রমাদান শিরোনামে।
- রমাদান নিয়ে আরও দুটি লেখা: রমাদানের শেষ দশ রাত ও লাইলাতুল কদর এবং রমাদান ২০২৭।
সাবীলের মেইলবক্স তৈরি করা হচ্ছে। কেউ তা পড়া শুরু করলেই এই প্রবন্ধে সংশোধন বা মতামত পাঠানোর উপায় দেওয়া হবে।