Ad-Dukhaan
This is a tafsīr in a language other than Arabic as the Quranic Universal Library (QUL, by Tarteel) has it, taken through the open copy of QUL’s data that spa5k/tafsir_api keeps. QUL’s record does not say who wrote or translated it or which printed edition it follows, and states no licence for the text, so the right to show it is not verified. Nobody has compared it with a printed book, and no scholar has reviewed it. Each passage stands beside the verses it comments on, which are the Qur’ān text of Tanzil, shown as it is there. Sabīl did not write or translate any of it.
Text fromQuranic Universal Libraryspa5k/tafsir_apiMITtaken 2026-10-21
إِنَّ ٱلْمُتَّقِينَ فِى مَقَامٍ أَمِينٍ 51 فِى جَنَّـٰتٍ وَعُيُونٍ 52 يَلْبَسُونَ مِن سُندُسٍ وَإِسْتَبْرَقٍ مُّتَقَـٰبِلِينَ 53 كَذَٰلِكَ وَزَوَّجْنَـٰهُم بِحُورٍ عِينٍ 54 يَدْعُونَ فِيهَا بِكُلِّ فَـٰكِهَةٍ ءَامِنِينَ 55 لَا يَذُوقُونَ فِيهَا ٱلْمَوْتَ إِلَّا ٱلْمَوْتَةَ ٱلْأُولَىٰ ۖ وَوَقَىٰهُمْ عَذَابَ ٱلْجَحِيمِ 56 فَضْلًا مِّن رَّبِّكَ ۚ ذَٰلِكَ هُوَ ٱلْفَوْزُ ٱلْعَظِيمُ 57 فَإِنَّمَا يَسَّرْنَـٰهُ بِلِسَانِكَ لَعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ 58 فَٱرْتَقِبْ إِنَّهُم مُّرْتَقِبُونَ 59
৫১-৫৯ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তা'আলা হতভাগ্যদের বর্ণনা দেয়ার পর সৌভাগ্যবানদের বর্ণনা দিচ্ছেন। এ জন্যেই কুরআন কারীমকে (আরবী) বলা হয়েছে। দুনিয়ায় যারা অধিকর্তা, সৃষ্টিকর্তা এবং ক্ষমতাবান আল্লাহকে ভয় করে চলে তারা কিয়ামতের দিন জান্নাতে অত্যন্ত শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে বসবাস করবে। সেখানে তারা মৃত্যু, বহিষ্কার, দুঃখ-কষ্ট, বিপদ-আপদ, ব্যথা-বেদনা, শয়তান ও তার চক্রান্ত, আল্লাহর অসন্তুষ্টি ইত্যাদি সমস্ত বিপদ-আপদ হতে সম্পূর্ণ নিশ্চিন্ত ও নিরাপদ থাকবে। কাফিররা তো সেখানে পাবে যাককূম বৃক্ষ এবং আগুনের মত গরম পানি, পক্ষান্তরে এই জান্নাতীরা লাভ করবে সুখময় জান্নাত এবং প্রবাহমান নদী ও প্রস্রবণ। আর পাবে তারা মিহি ও পুরু রেশমী বস্ত্র এবং তারা বসে থাকবে মুখখামুখী হয়ে। কারো দিকে কারো পিঠ হবে না, বরং তারা পরস্পর মুখখামুখী হবে। এই দানের সাথে সাথে তারা আয়ত লোচনা হ্র লাভ করবে, যাদেরকে ইতিপূর্বে কোন মানব অথবা দানব স্পর্শ করেনি। তারা যেন প্রবাল ও পদ্মরাগ! তাদের এসব নিয়ামত লাভের কারণ এই যে, তারা দুনিয়ায় আল্লাহ তা'আলাকে ভয় করে চলতো এবং তাঁর নির্দেশকে সামনে রেখে পার্থিব ভোগ্যবস্তু হতে দূরে থাকতো। সুতরাং আজ তিনি তাদের সাথে উত্তম ব্যবহার কেন করবেন না? যেমন তিনি বলেছেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “উত্তম কাজের জন্যে উত্তম পুরস্কার ব্যতীত কি হতে পারে?”(৫৫:৬০)হযরত আনাস (রাঃ) হতে মার’রূপে বর্ণিত আছেঃ “যদি এই হ্রদের মধ্যে কোন একজন সমুদ্রের লবণাক্ত পানিতে থুথু ফেলে তবে ওর সমস্ত পানি মিষ্ট হয়ে যাবে।” (এ হাদীসটি ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)এরপর মহান আল্লাহ বলেনঃ ‘সেখানে তারা প্রশান্ত চিত্তে বিবিধ ফলমূল আনতে বলবে। তারা যা চাইবে তা-ই পাবে। তাদের ইচ্ছা হওয়ামাত্রই তাদের কাছে তা হাযির হয়ে যাবে। ওগুলো শেষ হবার বা কমে যাবার কোন ভয় থাকবে না। মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ “প্রথম মৃত্যুর পর তারা সেখানে আর মৃত্যু আস্বাদন করবে না।' ইসতিসনা মুনকাতা এনে এর প্রতি গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। অর্থাৎ তারা জান্নাতে কখনই মৃত্যুবরণ করবে না। সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “মৃত্যুকে ভেড়ার আকারে জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যস্থলে আনয়ন করা হবে, অতঃপর ওকে যবেহ করে দেয়া হবে। তারপর ঘোষণা করা হবেঃ “হে জান্নাতবাসীরা! এটা তোমাদের জন্যে চিরস্থায়ী বাসস্থান, আর কখনো মৃত্যু হবে না। আর হে জাহান্নামবাসীরা! তোমাদের জন্যেও এটা চিরস্থায়ী বাসস্থান। কখনো আর তোমাদের মৃত্যু হবে না।" সূরায়ে মারইয়ামের তাফসীরেও এ হাদীস গত হয়েছে। হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “জান্নাতবাসীদেরকে বলা হবেঃ “তোমরা সদা সুস্থ থাকবে, কখনো রোগাক্রান্ত হবে না। সদা জীবিত থাকবে, কখনো মৃত্যু বরণ করবে না। সদা নিয়ামত লাভ করতে থাকবে, কখনো নিরাশ হবে না। সদা যুবক থাকবে, কখনো বৃদ্ধ হবে না। (এ হাদীসটি আবদুর রাযযাক (রঃ) এবং ইমাম মুসলিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। সেখানে সে নিয়ামত লাভ করবে, কখনো নিরাশ হবে না। সদা জীবিত থাকবে, কখনো মরবে না। সেখানে তার কাপড় ময়লা হবে না এবং তার যৌবন নষ্ট হবে না।” হযরত জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী (সঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হয়ঃ “জান্নাতবাসীরা নিদ্রা যাবে কি?” উত্তরে তিনি বলেনঃ “ন্দ্রিা তো মৃত্যুর ভাই।। জান্নাতীরা দ্রিা যাবে না।" (এ হাদীসটি আবুল কাসিম তিবরানী (রঃ) বর্ণনা করেছেন)হযরত জাবির ইবনে আবদিল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “নিদ্রা মৃত্যুর ভাই এবং জান্নাতবাসীরা নিদ্রা যাবে না।” [এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন আবু বকর ইবনে মিরদুওয়াই (রঃ)] এ হাদীসটি অন্য সনদেও বর্ণিত আছে এবং এর বিপরীতও ইতিপূর্বে গত হয়েছে। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে ভাল জানেন।এই আরাম, শান্তি এবং নিয়ামতের সাথে সাথে এই বড় নিয়ামতও রয়েছে যে, তাদেরকে আল্লাহ তাআলা জাহান্নামের শাস্তি হতে রক্ষা করবেন। সারমর্ম এই পাওয়া গেল যে, তাদের সর্বপ্রকারের ভয় ও চিন্তা দূর হয়ে যাবে। এজন্যেই এর সাথে সাথেই বলেছেনঃ ‘এটা শুধু আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ ও দয়া। এটাই তো মহাসাফল্য। সহীহ হাদীসে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “তোমরা ঠিকঠাক থাকো, কাছে কাছে থাকো এবং বিশ্বাস রাখো যে, কারো আমল তাকে জান্নাতে নিয়ে যেতে পারে না।” জনগণ জিজ্ঞেস করলোঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আপনার আমলও কি?” উত্তরে তিনি বললেনঃ “হ্যা, আমার আমলও আমাকে জান্নাতে নিয়ে যেতে পারে না যদি না আমার প্রতি আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহ হয়।” মহান আল্লাহ বলেনঃ “(হে নবী সঃ)! আমি তোমার ভাষায় কুরআনকে সহজ করে দিয়েছি, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।” অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলা কুরআন কারীমকে খুবই সহজ, স্পষ্ট, পরিষ্কার, প্রকাশমান এবং উজ্জ্বল রূপে রাসূল (সঃ)-এর উপর তাঁরই ভাষায় অবতীর্ণ করেছেন, যা অত্যন্ত বাকচাতুর্য, অলংকার এবং মাধুর্যপূর্ণ। যাতে লোকদের সহজে বোধগম্য হয়। এতদসত্ত্বেও লোকেরা এটাকে অস্বীকার ও মিথ্যা প্রতিপন্ন করছে। মহান আল্লাহ স্বীয় নবী (সঃ)-কে বলছেনঃ “তুমি তাদেরকে সতর্ক করে দাও এবং বলে দাও- তোমরাও অপেক্ষা কর এবং আমিও অপেক্ষমাণ রয়েছি। আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে কার প্রতি সাহায্য আসে, কার কালেমা সমুন্নত হয় এবং কে দুনিয়া ও আখিরাত লাভ করে, তা তোমরা সত্বরই দেখতে পাবে।” ভাবার্থ হচ্ছেঃ হে নবী (সঃ)! তুমি এ বিশ্বাস রাখো যে, তুমিই জয়যুক্ত ও সফলকাম হবে। আমার নীতি এই যে, আমি আমার নবীদেরকে ও তাদের অনুসারীদেরকে সমুন্নত করে থাকি। যেমন ইরশাদ হচ্ছে-(আরবী) অর্থাৎ “আল্লাহ লিপিবদ্ধ করে রেখেছেনঃ আমি (আল্লাহ) এবং আমার রাসূলরাই জয়যুক্ত থাকবো।”(৫৮:২১) অন্য জায়গায় রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “নিশ্চয়ই আমি আমার রাসূলদেরকে ও মুমিনদেরকে সাহায্য করবো পার্থিব জীবনে এবং যেদিন সাক্ষীগণ দণ্ডায়মান হবে। যেদিন যালিমদের ওর-আপত্তি কোন কাজে আসবে না, তাদের জন্যে রয়েছে লা'নত এবং তাদের জন্যে রয়েছে নিকৃষ্ট আবাস।”(৪০:৫১-৫২)।