ইসলাম — কুরআন ও সাবীল লাইব্রেরিতে আত্মসমর্পণের কথা
কুরআনে ইসলাম, জিবরীলের হাদীসে পাঁচ স্তম্ভ, ঈমানের সাক্ষ্য, আর মুসলিম হয়ে মৃত্যুর আয়াত, প্রতিটির সূত্রসহ।
এআই-এর লেখা · আলেমদের পর্যালোচনা বাকি আছে
এই প্রবন্ধের কথাগুলো সাবীল লাইব্রেরি ও তার উৎসগুলো থেকে এআই লিখেছে, এবং এআই-ই সেগুলোর সাথে মিলিয়ে তা যাচাই করেছে। কোনো আলেম এখনও এটি পর্যালোচনা করেননি। আরবি পাঠ, সেগুলোর অর্থ ও সেগুলোর সূত্র লাইব্রেরি ও কুরআনের নিজস্ব, সেখানে যেমন আছে হুবহু তেমনই দেখানো। নিজের অবস্থার ব্যাপারে ফতোয়ার জন্য একজন যোগ্য আলেমকে জিজ্ঞেস করুন।
প্রকাশিত ২১ অক্টোবর, ২০২৬পড়তে ১০ মিনিট
ইসলাম নিচের ৩:১৯ আয়াতে আল্লাহর নিকট একমাত্র দীন; আর অ্যাপে ব্যবহৃত বাংলা সংস্করণ ২:১৩২ ও ৩:১০২ আয়াতে “মুসলিম” শব্দের পাশে আত্মসমর্পণকারী কথাটি জুড়ে দেয়। নিচের আয়াতগুলোতে ইসলাম এমন কিছুও, যা চাওয়া হয়: আত্মসমর্পণকারীদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া, আর আত্মসমর্পণকারী হয়ে মৃত্যু। এই পাতায় আছে ঈমানের সাক্ষ্য, যা দিয়ে মানুষ ইসলামে প্রবেশ করে, হাদীসে যেভাবে পাঁচ স্তম্ভ গোনা হয়েছে, আর কুরআনে আত্মসমর্পণ নিয়ে আয়াতগুলো। প্রতিটি আয়াত তানযীলের আরবি ও অ্যাপে ব্যবহৃত সংস্করণের বাংলা অর্থসহ দেখানো হয়েছে, আর প্রতিটি হাদীসের গ্রন্থ ও নম্বর শেষে দেওয়া আছে। কিছু আয়াতের নিচে সংস্করণের নিজের টীকাও দেখানো হয়; সেগুলো সংস্করণের নিজের কথা, এই পাতার নয়; কোনোটি শব্দের অর্থ বলে, কোনোটিতে সংস্করণের নিজস্ব উপদেশ আছে, আর এই পাতা সেগুলো যাচাই করেনি। এই পাতা কোনো বিধান দেয় না।
আল্লাহর নিকট দীন
কুরআন বলে, ইসলামই আল্লাহর নিকট একমাত্র দীন।
নিশ্চয় ইসলামই আল্লাহ্র নিকট একমাত্র দীন [১]। আর যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছিল তারা কেবল পরস্পর বিদ্বেষবশতঃ তাদের নিকট জ্ঞান আসার পর মতানৈক্য ঘটিয়েছিল। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ্র আয়াতসমূহে কুফরী করে, তবে নিশ্চয় আল্লাহ্ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।
[১] সুদ্দী বলেন, ‘আল্লাহ্র নিকট মনোনীত দীন হচ্ছে ইসলাম’। এটা পূর্ববর্তী আয়াতে বর্ণিত আল্লাহ্, তাঁর ফেরেশতা এবং জ্ঞানীদের সাক্ষ্যের বিষয়। অর্থাৎ তারা এ সাক্ষ্যও দিচ্ছেন যে, আল্লাহ্র নিকট একমাত্র দীন হচ্ছে ইসলাম। [তাবারী] কাতাদা বলেন, ইসলাম হচ্ছে, আল্লাহ্ ব্যতীত হক্ক কোনো মা’বুদ নেই এ সাক্ষ্য দেয়া, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ্র কাছ থেকে যা নিয়ে এসেছেন তার সত্যতার স্বীকৃতি প্রদান। আর এটাই হচ্ছে আল্লাহ্ প্রদত্ত দীন যা তিনি প্রবর্তন করেছেন, রাসূলদেরকে যা নিয়ে প্রেরণ করেছেন, তাঁর বন্ধুদেরকে যার দিশা দিয়েছেন। এটা ব্যতীত তিনি আর কিছু গ্রহণ করবেন না। এটা অনুপাতে না হলে তিনি কাউকে পুরস্কৃত করবেন না। [তাবারী]
ঈমানের সাক্ষ্য
লাইব্রেরির শিরোনাম প্রথম চল্লিশ দিন শুরু হয়েছে “ঈমানের সাক্ষ্য” নামের একটি অংশ দিয়ে (ইংরেজিতে “The testimony of faith”): সাক্ষ্যের বাক্য, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, তার উচ্চারণ ও অর্থ, আর নিচে লাইব্রেরির নিজের একটি লাইন, সাক্ষ্য কখন যথেষ্ট তা নিয়ে। লাইনটি লাইব্রেরির নিজের, এর আলেমদের পর্যালোচনা এখনো বাকি, আর এই পাতা এ বিষয়ে কোনো বিধান দেয় না; নিজের অবস্থায় কী প্রযোজ্য, তা একজন আলেমকে জিজ্ঞেস করুন। সূত্রের লাইন (ইংরেজিতে ছাপা) একটি উক্তির সূত্র হিসেবে মুসলিমের নাম দেয়, মান সহীহ: ইসলাম আগের সবকিছু মুছে দেয়। সহীহ মুসলিমে আমর ইবনুল আস বর্ণনা করেন, তিনি যখন ইসলাম গ্রহণ করতে আসেন, তখন নবী ﷺ তাঁকে এ কথা বলেছিলেন। অংশের শেষ লাইন “Then, on the first day” (ইংরেজিতেই ছাপা) তার পরের ধাপগুলোর শিরোনাম, সাক্ষ্য নিয়ে কোনো টীকা নয়।
পাঁচ স্তম্ভ
সহীহ মুসলিমে উমর ইবনুল খাত্তাবের বর্ণনায় জিবরীলের হাদীসে নবী ﷺ-কে ইসলাম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়, আর তিনি পাঁচটি কথা বলেন: সাক্ষ্য দেওয়া যে আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম করা, যাকাত দেওয়া, রমাদানের রোযা রাখা, আর যার সামর্থ্য আছে তার জন্য বায়তুল্লাহর হজ। ইবনে উমর বর্ণনা করেন, নবী ﷺ বলেছেন, ইসলাম পাঁচটি বিষয়ের উপর প্রতিষ্ঠিত, আর তিনি পাঁচটির নাম বলেন। বুখারীর বর্ণনায়, আর মুসলিমের দুটি বর্ণনায়, হজ রোযার আগে এসেছে; মুসলিমের আরেক বর্ণনায় এক ব্যক্তি হজকে আগে বললে ইবনে উমর নিজেই তাকে শুধরে দেন এবং বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে এভাবেই শুনেছেন।
লাইব্রেরির ইমাম নববীর চল্লিশ হাদীস-এ ইবনে উমরের বর্ণনা নিয়ে একটি কার্ডে পাঁচটি স্তম্ভ আছে, কিন্তু ওই শিরোনামটি একটিমাত্র অংশ, যা নিয়ে লাইব্রেরির নিজস্ব যাচাইয়ে কিছু প্রশ্নের মীমাংসা এখনো হয়নি, তাই এখানে উদ্ধৃত হয়নি। লাইব্রেরির দুটি পোস্টারে মুসলিমের বর্ণনার ক্রমে স্তম্ভগুলোর স্থান লেখা আছে। পোস্টার সালাত আদায়ের নিয়ম-এর লেবেল “The second pillar”, অর্থাৎ দ্বিতীয় স্তম্ভ; রমাদান পোস্টারের লেবেল “The fourth pillar”, অর্থাৎ চতুর্থ স্তম্ভ। পোস্টারগুলোতে বিধান ও মাযহাবের মতভেদ নিয়েও লাইন আছে, যেগুলো এই পাতা আবার বলে না।
আত্মসমর্পণ
কুরআনে ইসলাম একটি প্রার্থনাও। এক আয়াতে একটি দু‘আ আছে, যাতে দু‘আকারী দুজন চান, তাঁদের যেন আল্লাহর একান্ত অনুগত করা হয়, তাঁদের বংশধর থেকেও এক অনুগত জাতি, আর তাঁদের ইবাদাতের নিয়ম দেখিয়ে দেওয়া হয় ও তাওবা কবুল করা হয়। দু‘আটি শুরু হয়েছে আগের আয়াতে (২:১২৭), যেখানে ইবরাহীম ও ইসমাঈল কাবাঘরের ভিত্তি স্থাপন করতে করতে তাঁদের রবের কাছে কবুলের দু‘আ করেন; এই আয়াত তারই ধারাবাহিকতা।
‘হে আমাদের রব ! আর আমাদের উভয়কে আপনার একান্ত অনুগত করুন এবং আমাদের বংশধর হতে আপনার এক অনুগত জাতি উত্থিত করুন। আর আমাদেরকে ‘‘ইবাদাতের নিয়ম-পদ্ধতি দেখিয়ে দিন [১] এবং আমদের তাওবা কবুল করুন। নিশ্চয় আপনিই বেশী তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।
[১] আয়াতে বর্ণিত (مَنَاسِكَ) এর অর্থ ইবাদাতও হয়, যেমনটি উপরে করা হয়েছে। কাতাদাহ বলেন, এর অর্থ হচ্ছে, হজের নিয়মাবলী। [তাবারী]
আর ইবরাহীম ও ইয়া’কূব তাদের পুত্রদের এরই নির্দেশ দিয়েছিলেন: আল্লাহ তাদের জন্য এ দীন মনোনীত করেছেন, কাজেই আত্মসমর্পণকারী না হয়ে তারা যেন মারা না যায়।
আর ইবরাহীম ও ইয়া’কূব তাদের পূত্রদেরকে এরই নির্দেশ দিয়ে বলেছিলেন, ‘হে পুত্রগণ ! আল্লাহ্ই তোমাদের জন্য এ দীনকে মনোনীত করেছেন। কাজেই আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম) না হয়ে তোমরা মারা যেও না’ [১]।
[১] ইবরাহীম ‘আলাইহিস সালামের মিল্লাত বা দীন ইসলাম তা সমগ্র জাতি বরং সমগ্র বিশ্বের জন্যই এক অনন্য নির্দেশনামা। এমতাবস্থায় আয়াতে বিশেষভাবে ইবরাহীম ও ইয়াকুব ‘আলাইহিমুস সালাম কর্তৃক সন্তানদের সম্বোধন করার কথা বলা হয়েছে এবং উভয় মহাপুরুষ অসীয়তের মাধ্যমে স্বীয় সন্তানদেরকে যে ইসলামের উপর সুদৃঢ় থাকার নির্দেশ দিয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে, এর কারণ এই যে, সন্তানদের ভালবাসা এবং মঙ্গল চিন্তা রিসালাত এমনকি বন্ধুত্বের স্তরেরও পরিপন্থী নয়। আল্লাহ্র বন্ধু যিনি এক সময় তার পালনকর্তার ইংগিতে স্বীয় আদরের দুলালকে কুরবানী করতে কোমর বেঁধেছিলেন, তিনিই অন্য সময় সন্তানের দুনিয়া ও আখেরাতের মঙ্গলের জন্য তার পালনকর্তার দরবারে দো'আও করেন এবং দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়ার সময় সন্তানকে এমন বিষয় দিয়ে যেতে চান, যা তার দৃষ্টিতে সর্ববৃহৎ নেয়ামত অর্থাৎ ইসলাম। সাধারণ মানুষের দৃষ্টিতে নেয়ামত ও ধন-সম্পদ হচ্ছে দুনিয়ার দামী বস্তু। অথচ নবী-রাসূলগণের দৃষ্টি অনেক উর্ধ্বে। তাদের কাছে প্রকৃত ঐশ্বর্য হচ্ছে ঈমান ও সৎকর্ম তথা ইসলাম। সাধারণ মানুষ মৃত্যুর সময় সন্তানকে বৃহত্তম ধন-সম্পদ দিয়ে যেতে চায়। আজকাল একজন বিত্তশালী ব্যবসায়ী কামনা করে, তার সন্তান মিল-ফ্যাক্টরীর মালিক হোক, আমদানী ও রপ্তানীর বড় বড় লাইসেন্স লাভ করুক, লক্ষ লক্ষ এবং কোটি কোটি টাকার ব্যাংক-ব্যালেন্স গড়ে তুলুক। একজন চাকুরীজীবী চায় তার সন্তান উচ্চপদ ও মোটা বেতনে চাকুরী করুক। অপরদিকে একজন শিল্পপতি মনে-প্রাণে কামনা করে, তার সন্তান শিল্পক্ষেত্রে চুড়ান্ত সাফল্য অর্জন করুক। সে সন্তানকে সারা জীবনের অভিজ্ঞতালব্ধ কলা-কৌশল বলে দিতে চায়। কিন্তু নবীগণ ও তাদের অনুসারী ওলীগণের সর্ববৃহৎ বাসনা থাকে, যে বস্তুকে তারা সত্যিকার চিরস্থায়ী ও অক্ষয় বলে মনে করেন, তা সন্তানরাও পুরোপুরিভাবে লাভ করুক। আর সেটা হচ্ছে দীন ইসলামের উপর অটুট থাকা ও এর একনিষ্ঠ খাদেম হওয়া। এ জন্য তারা দো‘আ করেন এবং চেষ্টাও করেন। অন্তিম সময়ে এরই জন্য অসীয়ত করেন। [তাফসীরে মা'আরিফুল কুরআন]
নবী-রাসূলগণের এ বিশেষ আচরণের মধ্যে সাধারণ মানুষের জন্যও একটি নির্দেশ রয়েছে। তা এই যে, তারা যেভাবে সন্তানদের লালন-পালন ও পার্থিব আরাম আয়েশের ব্যবস্থা করে, সেভাবে; বরং তার চাইতেও বেশী তাদের কার্যকলাপ ও চরিত্র সংশোধনের ব্যবস্থা করা দরকার। মন্দ পথ ও মন্দ কার্যকলাপ থেকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করা আবশ্যক। এরই মধ্যে সন্তানদের সত্যিকারের ভালবাসা ও প্রকৃত শুভেচ্ছা নিহিত। এটা কোনো বুদ্ধিমানের কাজ নয় যে, সন্তানকে রৌদ্রের তাপ থেকে বাঁচাবার জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করবে, কিন্তু চিরস্থায়ী অগ্নি ও আযাবের কবল থেকে রক্ষা করার প্রতি ভ্রুক্ষেপও করবে না। সন্তানের দেহ থেকে কাটা বের করার জন্য সর্ব প্রযত্নে চেষ্টা করবে, কিন্তু তাকে বন্দুকের গুলি থেকে রক্ষা করবে না। নবীদের কর্মপদ্ধতি থেকে আরও একটি মৌলিক বিষয় জানা যায় যে, সর্বপ্রথম সন্তানদের মঙ্গল চিন্তা করা এবং এরপর অন্যদিকে মনোযোগ দেয়া পিতা-মাতার কর্তব্য। পিতা-মাতার নিকট থেকে এটাই সন্তানদের প্রাপ্য। এতে দুটি রহস্য নিহিত রয়েছে - প্রথমতঃ প্রাকৃতিক ও দৈহিক সম্পর্কের কারণে পিতা-মাতার উপদেশ সহজে ও দ্রুত গ্রহণ করবে। অতঃপর সংস্কার প্রচেষ্টায় ও সত্য প্রচারে তারা পিতা-মাতার সাহায্যকারী হতে পারবে। দ্বিতীয়তঃ এটাই সত্য প্রচারের সবচাইতে সহজ ও উপযোগী পথ যে, প্রত্যেক পরিবারের দায়িত্বশীল ব্যক্তি আপন পরিবার-পরিজনের সংশোধনের কাজে মনে-প্রাণে আত্মনিয়োগ করবে। এ পদ্ধতির প্রতি লক্ষ্য করেই কুরআন বলে, “হে মুমিনগণ, নিজেকে এবং পরিবার-পরিজনকে আগুন থেকে রক্ষা কর”। [সূরা আত-তাহরীম: ৬]
মহানবী রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন সারা বিশ্বের রাসূল তার হেদায়াত কেয়ামত পর্যন্ত সবার জন্য ব্যাপক। তাকেও সর্বপ্রথম নির্দেশ দেয়া হয়েছে, “নিকট আত্মীয়দেরকে আল্লাহ্র শাস্তির ভয় প্রদর্শন করুন।” [সূরা আশ-শু'আরা: ২১৪]
আরও বলা হয়েছে, “পরিবার-পরিজনকে সালাত আদায় করার নির্দেশ দিন এবং নিজেও সালাত অব্যাহত রাখুন।" [সূরা ত্বা-হা: ১৩২]
মহানবী রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বদাই এ নির্দেশ পালন করেছেন। তৃতীয়তঃ আরও একটি রহস্য এই যে, কোনো মতবাদ ও কর্মসূচীতে পরিবারের লোকজন ও নিকটবতী আতীয়-স্বজন সহযোগী ও সমমনা না হলে সে মতবাদ অন্যের উপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে না। এ কারণেই প্রাথমিক যুগে মহানবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রচারকার্যের জবাবে সাধারণ লোকদের উত্তর ছিল যে, প্রথমে আপনি নিজ পরিবার কোরায়শকে ঠিক করে নিন; এরপর আমাদের কাছে আসুন। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিবারে যখন ইসলাম বিস্তার লাভ করল এবং মক্কা বিজয়ের সময় তা পরিপূর্ণ রূপ লাভ করল, তখন এর প্রতিক্রিয়া কুরআনের ভাষায় এরূপ প্রকাশ পেল: “মানুষ দলে দলে ইসলামে প্রবেশ করতে থাকবে।” [সূরা আন-নসর: ২]
আজকাল দীনহীনতার যে সয়লাব শুরু হয়েছে তার বড় কারণ এই যে, পিতা-মাতা দীনের জ্ঞানে জ্ঞানী ও দীনী হলেও সন্তানদের দীনি হওয়ার বিষয়ে চিন্তা করে না। সাধারণভাবে আমাদের দৃষ্টি সন্তানদের পার্থিব ও স্বল্পকালীন আরাম-আয়েশের প্রতিই নিবদ্ধ থাকে এবং আমরা এর ব্যবস্থাপনায়ই ব্যতিব্যস্ত থাকি। অক্ষয় ধন-সম্পদের দিকে মনোযোগ দেই না। আল্লাহ্ তা'আলা আমাদের সবাইকে তওফীক দিন, যাতে আমরা আখেরাতের চিন্তায় ব্যাপৃত হই এবং নিজের ও সন্তানদের জন্য ঈমান ও নেক আমলকে সর্ববৃহৎ পুঁজি মনে করে তা অর্জনে সচেষ্ট হই। [তাফসীরে মা'আরিফুল কুরআন]
সালাত, কুরবানী, জীবন ও মরণ
দুটি আয়াত সালাত, কুরবানী, জীবন ও মরণের কথা একসাথে বলে। নবী ﷺ-কে বলতে বলা হয়, তাঁর সালাত, তাঁর কুরবানী, তাঁর জীবন ও তাঁর মরণ সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহরই জন্য; তাঁর কোনো শরীক নেই; তাঁকে এরই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে; আর তিনি মুসলিমদের মধ্যে প্রথম।
বলুন, ‘আমার সালাত, আমার কুরবানী, আমার জীবন ও আমার মরণ সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহরই জন্য [১]।’
[১] এখানে نسك শব্দের অর্থ কুরবানী। হজের ক্রিয়াকর্মকেও نسك বলা হয়। মুজাহিদ বলেন, نسك বলতে সে প্রাণীকে বুঝায় যা হজ বা উমরাতে যবেহ করা হয়। [তাবারী] তবে এ শব্দটি সাধারণ ইবাদাত-উপাসনার অর্থেও ব্যবহৃত হয়। তাই ناسك শব্দটি عابد বা ইবাদতকারী অর্থেও বলা হয়। [কুরতুবী] আয়াতে এ সবকটি অর্থই নেয়া যেতে পারে। মুফাসসিরীন সাহাবা ও তাবেয়ীগণের কাছ থেকেও এসব তাফসীর বর্ণিত রয়েছে। তবে এখানে সাধারণ ইবাদাত অর্থ নেয়াই অধিক সঙ্গত মনে হয়। আয়াতের অর্থ এই যে, আমার সালাত, আমার সমগ্র ইবাদাত, আমার জীবন, আমার মরণ- সবই বিশ্ব-প্রতিপালক আল্লাহর জন্য নিবেদিত। এখানে দীনের শাখাগত কাজকর্মের মধ্যে প্রথমে সালাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কেননা এটি যাবতীয় সৎকর্মের প্রাণ ও দীনের স্তম্ভ। এরপর অন্যান্য সব কাজ ও ইবাদাত সংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়েছে। অতঃপর সমগ্র জীবনের কাজকর্ম ও অবস্থা এবং সবশেষে মরণের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে যে, আমার এ সবকিছুই একমাত্র বিশ্ব-প্রতিপালক আল্লাহর জন্য নিবেদিত- যার কোনো শরীক নেই। এটিই হচ্ছে পূর্ণ বিশ্বাস ও পূর্ণ আন্তরিকতার ফল। মানুষ জীবনের প্রতিটি কাজে ও প্রতিটি অবস্থায় এ কথা মনে রাখবে যে, আমার এবং সমগ্র বিশ্বের একজন পালনকর্তা আছেন, আমি তার দাস এবং সর্বদা তাঁর দৃষ্টিতে রয়েছি।
‘তাঁর কোনো শরীক নেই। আর আমাকে এরই নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে [১] এবং আমি মুসলিমদের মধ্যে প্রথম।’
[১] অর্থাৎ আমাকে আল্লাহ্ তা'আলার পক্ষ থেকে এরূপ ঘোষণা করার এবং আন্তরিকতা অবলম্বন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর আমি সর্বপ্রথম অনুগত মুসলিম। উদ্দেশ্য এই যে, এ উম্মতের মধ্যে সর্বপ্রথম মুসলিম আমি। [আত-তাফসীরুস সহীহ] কেননা প্রত্যেক উম্মতের সর্বপ্রথম মুসলিম স্বয়ং ঐ নবীই হন, যার প্রতি ওহী নাযিল করা হয়। আর প্রত্যেক নবীর দীনই ছিল ইসলাম। [ইবন কাসীর]
মুসলিম হয়ে মৃত্যু
২:১৩২-এর পর আরও দুটি আয়াতে মুসলিম হয়ে মৃত্যুর কথা আছে। একটি মুমিনদের বলে, যথার্থভাবে আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করতে, আর মুসলিম না হয়ে কোনো অবস্থায় মৃত্যুবরণ না করতে।
হে মুমিনগণ! তোমরা যথার্থভাবে আল্লাহ্র তাকওয়া অবলম্বন কর [১] এবং তোমরা মুসলিম (পরিপূর্ণ আত্মসমর্পণকারী) না হয়ে কোনো অবস্থায় মৃত্যুবরণ করো না [২]
এগারতম রুকূ‘
[১] আলোচ্য আয়াতে আল্লাহ্র তাকওয়া অর্জনের হক্ক আদায় করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ তাকওয়ার ঐ স্তর অর্জন কর, যা তাকওয়ার হক। কিন্তু তাকওয়ার হক বা যথার্থ তাকওয়া কী? আব্দুল্লাহ ইবন মাস’উদ, রবী, কাতাদাহ ও হাসান রাহিমাহুমুল্লাহ বলেন, তাকওয়ার হক হল, প্রত্যেক কাজে আল্লাহ্র আনুগত্য করা, আনুগত্যের বিপরীতে কোনো কাজ না করা, আল্লাহকে সর্বদা স্মরণে রাখা- কখনো বিস্মৃত না হওয়া এবং সর্বদা তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা- অকৃতজ্ঞ না হওয়া। [ইবন কাসীর]
[২] এতে বুঝা যায় যে, পূর্ণ ইসলামই প্রকৃতপক্ষে তাকওয়া। অর্থাৎ আল্লাহ্ তা’আলা ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের পূর্ণ আনুগত্য করা এবং তাঁর অবাধ্যতা থেকে বেঁচে থাকার নামই হচ্ছে তাকওয়া অবলম্বন। আয়াতের শেষে মুসলিম না হয়ে যেন কারও মৃত্যু না হয় সেটার উপর জোর দেয়া হয়েছে। দুনিয়াতে ঈমানদারের অবস্থান হবে আশা-নিরাশার মধ্যে। সে এক দিকে আল্লাহ্র রহমতের কথা স্মরণ করে নাজাতের আশা করবে, অপরদিকে আল্লাহ্র শাস্তির কথা স্মরণ করে জাহান্নামে যাওয়ার ভয় করবে। কিন্তু মৃত্যুর সময় তাকে আল্লাহ সম্পর্কে সুধারণা নিয়েই মরতে হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের কেউ যেন আল্লাহ সম্পর্কে সু ধারণা না নিয়ে মারা না যায়।” [মুসলিম ২৮৭৭] অর্থাৎ মৃত্যুর সময় তার আশা থাকবে যে, নিশ্চয় আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করবেন।
অন্যটি সূরা ইউসুফের শেষের দিকের একটি দু‘আ: বক্তা তাঁর রবকে বলেন, তিনি তাঁকে রাজ্য দান করেছেন ও স্বপ্নের ব্যাখ্যা শিক্ষা দিয়েছেন, আর চান, তাঁকে যেন মুসলিম হিসেবে মৃত্যু দেওয়া হয় এবং সৎকর্মপরায়ণদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
‘হে আমার রব! আপনি আমাকে রাজ্য দান করেছেন এবং স্বপ্নের ব্যাখ্যা শিক্ষা দিয়েছেন। হে আসমানসমূহ ও যমীনের সষ্টা! আপনিই দুনিয়া ও আখিরাতে আমার অভিভাবক। আপনি আমাকে মুসলিম হিসেবে মৃত্যু দিন এবং আমাকে সৎকর্মপরায়ণদের অন্তর্ভুক্ত করুন [১]।’
[১] পিতা-মাতা ও ভাইদের সাথে সাক্ষাতের ফলে যখন জীবনে শান্তি আসল, তখন সরাসরি আল্লাহ্র প্রশংসা, তাঁর কাছে দো'আয় মশগুল হয়ে গেলেন এবং বললেন: “হে আমার পালনকর্তা! আপনি আমাকে রাষ্ট্রক্ষমতা দান করেছেন এবং আমাকে স্বপ্নের ব্যাখ্যা শিখিয়েছেন। হে আসমান ও যমীনের স্রষ্টা! আপনিই দুনিয়া ও আখেরাতে আমার কাৰ্যনির্বাহী। আমাকে পূর্ণ আনুগত্যশীল অবস্থায় দুনিয়া থেকে উঠিয়ে নিন এবং আমাকে পরিপূর্ণ সৎ বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত রাখুন।” ‘পরিপূর্ণ সৎ বান্দা’ নবীগণই হতে পারেন। এ দো’আয় ‘খাতেমা বিলখায়ের’ অর্থাৎ অন্তিম সময়ে পূর্ণ আনুগত্যশীল হওয়ার প্রার্থনাটি বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য। আল্লাহ্ তা'আলার প্রিয়জনদের বৈশিষ্ট্য এই যে, তারা দুনিয়া ও আখেরাতে যত উচ্চ মর্যাদাই লাভ করুন এবং যত প্রভাব-প্রতিপত্তি ও পদমর্যাদাই তাদের পদচুম্বন করুক, তারা কখনো গর্বিত হন না; বরং সর্বদাই এসব অবস্থা বিলুপ্ত হওয়ার অথবা হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা করতে থাকেন। তাই তারা দো’আ করতে থাকেন, যাতে আল্লাহ্ -প্রদত্ত বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণ নেয়ামতসমূহ জীবনের শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত অব্যাহত থাকে, বরং সেগুলো আরো যেন বৃদ্ধি পায়।
আয়াতে যাদের মুসলিম বলা হয়েছে
এক আয়াতে তালিকার শুরুতেই মুসলিম পুরুষ ও মুসলিম নারী, তারপর মুমিন, অনুগত, সত্যবাদী, ধৈর্যশীল, বিনীত, দানশীল, সওম পালনকারী, যৌনাঙ্গ হিফাজতকারী এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণকারী পুরুষ ও নারী; তাদের সবার জন্য আল্লাহ রেখেছেন ক্ষমা ও মহাপ্রতিদান।
নিশ্চয় মুসলিম পুরুষ ও মুসলিম নারী, মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারী, অনুগত পুরুষ ও অনুগত নারী, সত্যবাদী পুরুষ ও সত্যবাদী নারী, ধৈর্যশীল পুরুষ ও ধৈর্যশীল নারী, বিনীত পুরুষ ও বিনীত নারী, দানশীল পুরুষ ও দানশীল নারী, সওম পালনকারী পুরুষ ও সওম পালনকারী নারী, যৌনাঙ্গ হিফাজতকারী পুরুষ ও যৌনাঙ্গ হিফাজতকারী নারী, আল্লাহ্কে অধিক স্মরণকারী পুরুষ ও আল্লাহ্কে অধিক স্মরণকারী নারী ------ তাদের জন্য আল্লাহ্ রেখেছেন ক্ষমা ও মহাপ্রতিদান।
আর আরেক আয়াত প্রশ্ন করে, তার চেয়ে কার কথা উত্তম, যে আল্লাহর দিকে আহবান জানায়, সৎকাজ করে, আর বলে যে সে মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত।
আর তার চেয়ে কার কথা উত্তম যে আল্লাহর দিকে আহবান জানায় এবং সৎকাজ করে। আর বলে, 'অবশ্যই আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত [১]।'
[১] এটা মুমিনদের দ্বিতীয় অবস্থা। তারা কেবল নিজেদের ঈমান ও আমল নিয়েই সস্তুষ্ট থাকে না, বরং অপরকেও দাওয়াত দেয়। বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকে, তার চেয়ে উত্তম কথা আর কার হতে পারে? মুমিনদের সান্তুনা দেয়া এবং মনোবল সৃষ্টির পর এখন তাদেরকে তাদের আসল কাজের প্রতি উৎসাহিত করা হচ্ছে। আগের আয়াতে তাদের বলা হয়েছিলো, আল্লাহর বন্দেগীর ওপর দৃঢ়পদ হওয়া এবং এই পথ গ্রহণ করার পর পুনরায় তা থেকে বিচ্যুত না হওয়াটাই এমন একটা মৌলিক নেকী যা মানুষকে ফেরেশতার বন্ধু এবং জান্নাতের উপযুক্ত বানায়। এখন তাদের বলা হচ্ছে, এর পরবর্তী স্তর হচ্ছে, তোমরা নিজে নেক কাজ করো, অন্যদেরকে আল্লাহর বন্দেগীর দিকে ডাকো এবং ইসলামের ঘোষণা দেয়াই যেখানে নিজের জন্য বিপদাপদ ও দুঃখ-মুসিবতকে আহবান জানানোর শামিল এমন কঠিন পরিবেশেও দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করে: আমি মুসলিম। মানুষের জন্য এর চেয়ে উচ্চস্তর আর নেই। কিন্তু আমি মুসলিম বলে কোনো ব্যক্তির ঘোষণা করা, পরিণামের পরোয়া না করে সৃষ্টিকে আল্লাহর বন্দেগীর দিকে আহ্বান জানানো এবং কেউ যাতে ইসলাম ও তার ঝাণ্ডাবাহীদের দোষারোপ ও নিন্দাবাদ করার সুযোগ না পায় এ কাজ করতে গিয়ে নিজের তৎপরতাকে সেভাবে পবিত্র রাখা হচ্ছে পূর্ণ মাত্রার নেকী। এ থেকে বোঝা গেল যে, মানুষের সেই কথাই সর্বোত্তম ও সর্বোৎকৃষ্ট যাতে অপরকে সত্যের দাওয়াত দেয়া হয়। এতে মুখে, কলমে, অন্য কোনভাবে সর্বপ্রকার দাওয়াতই শামিল রয়েছে। আযানদাতাও এতে দাখিল আছে। কেননা সে মানুষকে সালাতের দিকে আহ্বান করে। এ কারণেই আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, আলোচ্য আয়াত মুয়াযযিন সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। কোনো কোনো মুফাসসির বলেন, এখানে دَعَآاِلَى اللهِ বাক্যের পর وَعَمِلَ صِالِحًا বলে আযান-ইকামতের মধ্যস্থলে দুরাকাআত সালাত বোঝানো হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আযান ও একমাতের মাঝখানে যে দো’আ হয়, তা প্রত্যাখ্যাত হয় না। [আবু দাউদ ৫২১]
সূত্র
কুরআনের আয়াত, সূরা ও আয়াত নম্বরে, উপরে দেখানো: ২:১২৮; ২:১৩২; ৩:১৯; ৩:১০২; ৬:১৬২–১৬৩; ১২:১০১; ৩৩:৩৫; ৪১:৩৩। লেখায় উল্লেখিত: ২:১২৭, কাবাঘরের ভিত্তি স্থাপনের জন্য।
হাদীস, গ্রন্থ ও নম্বরে, sunnah.com যেভাবে নম্বর দেয়: বুখারী ফাতহুল বারীর নম্বর অনুযায়ী; মুসলিম মুহাম্মাদ ফুয়াদ আবদুল বাকীর নম্বর অনুযায়ী, আর sunnah.com যেখানে একটি নম্বরকে ভাগ করেছে সেখানে তার বর্ণ (ক = a, খ = b, গ = c) সহ।
- ইসলাম আগের সবকিছু মুছে দেয়, আমর ইবনুল আসকে বলা: সহীহ মুসলিম ১২১।
- জিবরীলের হাদীস, ইসলাম ও তার পাঁচটি: সহীহ মুসলিম ৮ক।
- ইসলাম পাঁচটি বিষয়ের উপর প্রতিষ্ঠিত: সহীহ বুখারী ৮; সহীহ মুসলিম ১৬ক, ক্রম নিয়ে ইবনে উমরের সংশোধনসহ (আরবিতে; sunnah.com-এর ইংরেজিতে তাঁর শেষ কথাটি নেই); সহীহ মুসলিম ১৬খ ও ১৬গ, যেখানে হজ রোযার আগে।
সাবীল লাইব্রেরি থেকে: প্রথম চল্লিশ দিন, “ঈমানের সাক্ষ্য” অংশ; সালাত আদায়ের নিয়ম ও রমাদান পোস্টার, তাদের লেবেল, লিংক হিসেবে; ইমাম নববীর চল্লিশ হাদীস, লিংক হিসেবে, উদ্ধৃত নয়।
এরপর কোথায় যাবেন
- কুরআন-এ উপরের প্রতিটি আয়াত তার সূরায়, অর্থসহ আছে।
- প্রথম চল্লিশ দিন সেই শিরোনাম, যেখান থেকে সাক্ষ্যের অংশটি নেওয়া; তার ধাপে ধাপে চলার পথ শিখুন অংশে।
- ঈমান — কুরআন ও সাবীল লাইব্রেরিতে বিশ্বাসের কথা ঈমান নিয়ে সঙ্গী পাতা; তাতে সেই আয়াতটিও আছে, যেখানে বেদুঈনদের বলতে বলা হয় যে তারা আত্মসমর্পণ করেছে, কারণ ঈমান এখনো তাদের অন্তরে প্রবেশ করেনি।
- ইহসান — কুরআন ও সাবীল লাইব্রেরিতে ভালো কাজের কথা ইহসান নিয়ে সঙ্গী পাতা; তাতে ২:১১২ ও ৩১:২২ আছে, যে দুটি আয়াতে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণের সঙ্গে ভালো কাজের কথা এসেছে।
সাবীলের মেইলবক্স তৈরি করা হচ্ছে। কেউ তা পড়া শুরু করলেই এই প্রবন্ধে সংশোধন বা মতামত পাঠানোর উপায় দেওয়া হবে।